প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম হাটহাজারীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
মোহাম্মদ শফিউল আলম, নির্বাহী পরিচালক ||
টানা কয়েকদিনের রেকর্ড ভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। হালদা নদী ও মুন্দারী ছড়ার পানি উপচে এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।আজকের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো নিচে দেওয়া হলো:যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সড়ক পরিস্থিতিমহাসড়কে ঝুঁকি: অক্সিজেন-হাটহাজারী-নাজিরহাট এবং হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। বড়দিঘীর পাড়, নন্দীরহাট ও এনায়েতপুর এলাকা দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করছে। ছোট ছোট যানবাহন (যেমন- সিএনজি অটোরিকশা, কার) চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।অভ্যন্তরীণ সড়ক নিমজ্জিত: উপজেলার অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক এখন পানির নিচে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ফরহাদাবাদ বংশাল সড়ক, সৈয়দ কোম্পানি সড়ক, এনায়েতপুর গুমানমর্দন সড়ক, মেখল গড়দুয়ারা, ফতেপুর মাদার্শা এবং অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক।বাঁশের সেতু নিখোঁজ: হালদা নদীর তীব্র স্রোতে নাঙ্গলমোড়ার কাউন্যারহাট বাজার এলাকায় নির্মিত একটি অস্থায়ী বাঁশের সেতু ভেসে গেছে। এর ফলে দক্ষিণ ফটিকছড়ি ও উত্তর রাউজানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ইউনিয়ন ভিত্তিক সর্বশেষ অবস্থাছিপাতলী ও কাজিরখীল: চারিয়া-কাজিরখীল মুরাদ সড়কের অংশবিশেষ তলিয়ে যাওয়ায় এই এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।শিকারপুর ও মাদার্শা: শিকারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। অন্যদিকে, মধ্যম মাদার্শা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধবিহারে পানি ঢুকে পড়ায় ধর্মীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিপর্যয়: নিরাপত্তার স্বার্থে এনায়েতপুর, গুমানমর্দন, শিকারপুর এবং বুড়িশ্চরসহ বেশ কয়েকটি প্লাবিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা স্থগিতচলতি বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে উপজেলার সমস্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনগুলো অঘোষিতভাবে বন্ধ রয়েছে।সরকারি ও বেসরকারি তৎপরতাপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। সরকারের পক্ষে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হাটহাজারী পৌরসভাসহ চিকনদণ্ডী ও মেখল ইউনিয়নের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা (যেমন- বড়দিঘীর পাড়, খিল্লাপাড়া, আজিমপাড়া, ইছাপুর) পরিদর্শন করেছেন এবং পানিবন্দি মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।জরুরি তথ্য: হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সহায়তার জন্য একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে