প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।
মোহাম্মদ শফিউল আলম, নির্বাহী পরিচালক ||
টানা কয়েকদিনের রেকর্ড ভাঙা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইছামতি নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র তীরভাঙন দেখা দিয়েছে এবং উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।আজকের সর্বশেষ পরিস্থিতির মূল আপডেটগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:পাহাড় ধস ও প্রাণহানিমর্মান্তিক দুর্ঘটনা: টানা অতিবৃষ্টির কারণে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত: রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ভবানি এলাকায় পাহাড় ধসে ৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া বেতাগী ইউনিয়নের ডেমিরছড়া গুচ্ছগ্রামের কাছেও দুটি বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়েছে। পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল এলাকাতেও নতুন করে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও সড়ক পরিস্থিতিকালভার্ট বিচ্ছিন্ন: ইসলামপুর ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।সড়ক নিমজ্জিত: চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রাম সড়ক এখন কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সরফভাটা ইউনিয়নের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।ফসলি জমি ও নদী ভাঙনইছামতি নদীর তাণ্ডব: পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইছামতি নদীর পানি উপচে দুই কূল প্লাবিত করেছে। নদীর বিভিন্ন অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।কৃষিতে ক্ষতি: উপজেলার হাজার হাজার একর আমন ধানের বীজতলা এবং শাকসবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রশাসন ও বেসরকারি তৎপরতাজরুরি খাদ্য সহায়তা: দুর্যোগকবলিত ও পানিবন্দি মানুষের খাদ্যসংকট লাঘব করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসানের উদ্যোগে বন্যাকবলিত ও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রায় শতাধিক পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার (ভাত, মাংস, ডিম ও সবজি) বিতরণ করা হয়েছে।সর্বোচ্চ সতর্কতা: পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে রাঙ্গুনিয়ার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার এবং নতুন করে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে