প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
জামেয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও অবদান
মোহাম্মদ শফিউল আলম, নির্বাহী পরিচালক ||
হযরত আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি (র.) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, আধ্যাত্মিক সাধক (ওলি) এবং সমাজ সংস্কারক। ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) খাঁটি সুন্নি মতাদর্শের প্রচার এবং আধুনিক দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অতুলনীয়।তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও প্রধান অবদানসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:১. জন্ম ও বংশ পরিচয়তিনি বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলার সিরিকোট নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ (নবী বংশীয়) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ আধ্যাত্মিক সাধনা ও দ্বীনি খেদমতের জন্য সমাদৃত ছিলেন। তিনি সিরিকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ ও বড় হওয়ার কারণে তাঁর নামের শেষে 'সিরিকোটি' যুক্ত হয়।২. শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক জীবনতিনি শৈশবে নিজ পরিবার এবং স্থানীয় উলামাদের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভারতের প্রখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ-এ যান এবং সেখানে হাদিস, তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি কাদেরীয়া তরিকার মহান সাধক হযরত শাহ মুহাম্মদ রেদওয়ান আলী (র.)-এর নিকট বায়াত (দীক্ষা) গ্রহণ করেন এবং খেলাফত লাভ করেন। পীরের নির্দেশে তিনি রেঙ্গুন (মিয়ানমার) এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন।৩. প্রধান অবদানসমূহআনজুমান ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৪ সালে তিনি "আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট" গঠন করেন। এই অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক সংস্থা, যা দেশজুড়ে শত শত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদ পরিচালনা করছে।জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা স্থাপন: ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে তিনি নিজের পীরের নামানুসারে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।জশনে জুলুসের সূচনা: বাংলাদেশে বর্তমান যুগের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত "জশনে জুলুসে মিলাদুন্নবী (স.)" (১২ই রবিউল আউয়াল আল্লাহর রাসুলের আগমন উপলক্ষে আনন্দ র্যালি)-এর মূল রূপরেখা ও অনুপ্রেরণা তাঁর এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র হযরত তৈয়্যব শাহ (র.)-এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল।সমাজ সংস্কার: তিনি সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীকরণ, শিক্ষার আলো ছড়ানো এবং মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।৪. ওফাত ও মাজার শরীফএই মহান সাধক ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৮১ হিজরি) ইহলোক ত্যাগ করেন। পাকিস্তানের সিরিকোট গ্রামে তাঁর পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত, যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান তাঁর স্মরণে উপস্থিত হন। তাঁর ওফাতের পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.) এবং পরবর্তীতে তাঁর পৌত্রগণ এই দ্বীনি ও সামাজিক ধারাকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে