প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যাওয়া বাঁশখালীর দুর্গম গ্রামে ত্রাতা হয়ে পৌঁছাল ‘তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড’
||
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও কিছু কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো পৌঁছায়নি সরকারি বা বেসরকারি বড় কোনো সাহায্য। এমনই এক অবহেলিত জনপদ বাঁশখালীর মধ্যম সরল ও পশ্চিম মিনজিরিতলা গ্রামের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে বানভাসি অসহায় মানুষের আর্তনাদ শোনার মতো যেন কেউ ছিল না। প্রশাসন, গণমাধ্যম কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কোনো প্রকার সহায়তা বা সান্ত্বনার বাণীও যেখানে পৌঁছায়নি, ঠিক সেই চরম সংকটের মুহূর্তে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ‘তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড’।সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল ওই এলাকার শতশত অবহেলিত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানবিক মানুষদের পাঠানো আমানত (ত্রাণ) অক্ষত অবস্থায় এই দুর্গম অঞ্চলের মানুষের হাতে পৌঁছে দেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।"যেখানে এখনো কেউ পৌঁছাতে পারেনি, আমরা সেখানে গিয়ে আপনাদের পাঠানো আমানত পৌঁছে দিয়েছি। এই অসহায় মানুষগুলোর মুখে সামান্য হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।" — মুফতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বারীদুর্গত এলাকার বাস্তব চিত্র:যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ পানিবন্দী থাকলেও মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণের নজরের বাইরে ছিল।সহায়তার অভাব: প্রশাসনের কোনো টিম কিংবা মূলধারার মিডিয়ার কর্মীরাও এই দুর্গম এলাকায় পৌঁছায়নি।অসহায়ত্ব: শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছিল এখানকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।‘তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম বারীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও আয়োজনে এই ত্রাণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ত্রাণ বিতরণ শেষে পানিবন্দী মানুষের মাঝে সান্ত্বনা প্রদান এবং এই বিপর্যয় থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের এই সংকটে তোহফা ফর ম্যানকাইন্ড-এর এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে