প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে ডুবল ফসলের ক্ষেত ও মাছের খামার: বাজারে নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট, চড়া দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
মো. আব্বাস আলী চৌধুরী মুন্না, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ||
গত এক সপ্তাহের টানা অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে কর্মব্যস্ততা, অন্যদিকে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। কাঁচা শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের জমি এবং শাকসবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের কষ্টার্জিত ফলন। শুধু ফসলি জমিই নয়, বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের খামার ও পুকুর। ফলে চাষিরা যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনই বাজারগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ও মাছের সরবরাহ একবারে নেমে গেছে শূন্যের কোঠায়।সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে যে সামান্য পরিমাণ কাঁচা শাকসবজি ও মাছ আসছে, তা বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এখন বাজারে গিয়ে ব্যাগ ভরা তো দূরের কথা, দুবেলা দুমুঠো খাবারের জোগাড় করাই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতা ও দিনমজুরেরা জানান, বৃষ্টির কারণে এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে তাদের কাজকর্ম প্রায় বন্ধ। আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বাজারে নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন দামের কারণে তারা এখন দিশেহারা।কাজ নেই, তার ওপর বাজারের এই অবস্থা। এভাবে চললে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিং করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া।"সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং কাঁচামালের সরবরাহ সচল করার বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, বাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে