প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ড বধের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা!
||
স্পোর্টস ডেস্ক, ১৬ জুলাই, ২০২৬: বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও সেই চিরন্তন দ্বৈরথ, আর আবারও শেষ হাসি হাসল আলবিসেলেস্তেরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গতকাল রাতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। টানটান উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত আর মাঠের তীব্র লড়াই শেষে থ্রি-লায়ন্সদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠার টিকিট কেটে নিল আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একবার ফুটবলের রাজমুকুট ধরে রাখার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচ রিপোর্ট: মাঠের যুদ্ধ ও ট্যাকটিকাল লড়াইম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উপচে পড়া উত্তেজনা। প্রথমার্ধের শুরুতেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে দুই দল।প্রথমার্ধের আধিপত্য: খেলার শুরু থেকেই বল পজেশন ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে তারা বারবার ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে। ম্যাচের ২৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ দারুণ এক কম্বিনেশনে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয়। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান আলবিসেলেস্তে তারকা। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন নীল-সাদা উল্লাস।ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ: ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম এবং বুকায়ো সাকার জুটি প্রথমার্ধের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বেশ ভালোই পরীক্ষা করে। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক 'দিবু' মার্তিনেসের অতিমানবীয় কিছু সেভ প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখতে সাহায্য করে।দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তা: দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড আক্রমণের ধার আরও বাড়ায়। ম্যাচের ৭০ মিনিটে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পরিশোধ করে সমতায় ফেরে থ্রি-লায়ন্সরা। ম্যাচ তখন ১-১! পেনাল্টি শুটআউটের শঙ্কা যখন জাগছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উইং থেকে আসা একটি ক্রসকে দুর্দান্ত হেডে জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার।বাকি সময়টা গোলপোস্টের সামনে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম।পরিসংখ্যান এক নজরেপরিসংখ্যানআর্জেন্টিনাইংল্যান্ডগোল২১শট (লক্ষ্যে)১২ (৬)১০ (৪)বল পজেশন৫৪%৪৬%ফাউল১১১৪কর্নার৫৪লড়াইয়ের নেপথ্যে যারাআর্জেন্টিনার এই অবিস্মরণীয় জয়ের পেছনে প্রধান কারিগর ছিল তাদের জমাটবদ্ধ দলীয় পারফরম্যান্স। মাঝমাঠের ক্রিয়েটিভিটি এবং রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন ডিফেন্স ইংল্যান্ডের গতিময় ফুটবলকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, গোলপোস্টের নিচে আর্জেন্টিনার বাজপাখির বিশ্বস্ত হাত তো ছিলই!"এটি শুধু একটি জয় নয়, এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি সোনালী পাতা। ছেলেরা মাঠে তাদের সবটুকু দিয়ে খেলেছে। ইংল্যান্ড দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, কিন্তু ফাইনালে যাওয়ার যোগ্যতা আমাদেরই ছিল।" — আর্জেন্টাইন কোচসামনে এখন স্বপ্নের ফাইনালইংল্যান্ডকে বিদায় করে আর্জেন্টিনা এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে। কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্ন এখন একটাই—টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয় করে ট্রফিটা নিজেদের ঘরেই রাখা। আগামী রবিবারের ফাইনালে কার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, তা দেখার জন্য এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।আপাতত মেতে ওঠার পালা নীল-সাদা উৎসবে। আর্জেন্টিনা প্রমাণ করল, কেন তারা বিশ্বমঞ্চের আসল রাজা!
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে