প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় কঠোর প্রধানমন্ত্রী: ফিটনেসবিহীন গাড়ি অপসারণ ও ৫০ পয়েন্টে অটো ট্রাফিক লাইটের নির্দেশ
||
ঢাকা: রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। রাজধানীর সড়ক থেকে সব ধরনের ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।একই সঙ্গে ঢাকার তীব্র যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে 'অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম' দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বায়ু ও শব্দদূষণের মাধ্যমে যারা নগরবাসীর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সড়ক থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী এবং ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন ও বাণিজ্যিক যানবাহন অনতিবিলম্বে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তাগিদ দেন তিনি।ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ারাজধানীর চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি কমাতে ম্যানুয়াল বা হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আরও ৫০টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তি চালু হলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।বৈঠকে গৃহীত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:বায়ু দূষণ রোধ: ঢাকার বাতাসকে ক্ষতিকর ধূলিকণা মুক্ত করতে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোতে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ।সমন্বিত তদারকি: পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) যৌথভাবে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জনসচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবেশ রক্ষা এবং ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশনাগুলো যাতে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত কাজের অগ্রগতি তদারকি করবে। সরকারের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে ঢাকার পরিবেশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় খুব দ্রুতই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদেরা।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে