প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
লাইফ সাপোর্টে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, অবস্থা আশঙ্কাজনক
মোহাম্মদ শফিউল আলম, নির্বাহী পরিচালক ||
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৬: বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে নেওয়া হয়। তার একান্ত রাজনৈতিক সচিব মোকসেদুর রহমান আবীর গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শারীরিক অবস্থার অবনতি ও চিকিৎসকের বক্তব্যব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার দীর্ঘদিনের জটিল শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মোকসেদুর রহমান আবীর বলেন, "স্যারের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ ব্যাপক অবনতি ঘটে। উনার কিডনি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং রক্তে মারাত্মক ইনফেকশন (Sepsis) ধরা পড়েছে। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জটিল স্নায়বিক (নিউরো) সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উনাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।"লন্ডন থেকে বড় ছেলের আগমনপারিবারিক সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার খবর পেয়ে তার বড় ছেলে লন্ডন থেকে জরুরি ভিত্তিতে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাজনৈতিক সচিব আবীর জানান, "আমরা স্যারের বড় ছেলের অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি লন্ডন থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ও ডাক্তারদের পরামর্শে স্যারকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।"রাজনৈতিক জীবন ও অবদানব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। মন্ত্রিত্ব: ১৯৯১ সালের বিএনপি সরকারে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় ভূমিকা: বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম—স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলটির বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেছেন। পেশাজীবন: সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রবীণ ও প্রখ্যাত আইনজীবী হিসেবে আইনি অঙ্গনেও তার অসামান্য অবদান রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন ক্রনিক অসুস্থতার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তার এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সুত্র - বিএনপি মিডিয়া সেল
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে