প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম: তীব্র ভোগান্তিতে জনজীবন, সিএনজি স্টেশনে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লাইন
মোহাম্মদ আব্বাস আলী চৌধুরী মুন্না , রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ||
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: গত দুই দিন ধরে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গৃহস্থালি রান্নাঘর থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সবখানেই এখন হাহাকার। এই আকস্মিক ও অভূতপূর্ব সংকটের কারণে সার্বিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থবিরতা নেমে এসেছে বন্দরনগরীর স্বাভাবিক গতিতে।যানবাহন শূন্য সড়ক, বাড়তি ভাড়ায় দুর্ভোগগ্যাস সরবরাহে তীব্র ঘাটতির কারণে নগরীর অধিকাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহন সড়কে নামতে পারছে না। ফলে দেখা দিয়েছে চরম যানবাহন সংকট।অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি: সকালে কর্মজীবী মানুষ যথাসময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না। যানবাহন না পেয়ে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা।যাত্রীদের পকেট কাটা: জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে যারা বের হচ্ছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি অতিরিক্ত ভাড়া। সিএনজি ও রিকশাচালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।কিলোমিটারজুড়ে অপেক্ষার প্রহর: নজুমিয়ার হাটের লাইন মদুনাঘাট পর্যন্তযানবাহনে গ্যাস নেওয়ার জন্য নগরী ও আশপাশের প্রতিটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে এখন দেখা যাচ্ছে নজিরবিহীন দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।বাস্তব চিত্র: হাটহাজারী রোডের নজুমিয়ার হাট ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজির লাইন গড়িয়ে মদুনাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে! একই চিত্র নগরীর জিইসি, ষোলশহর, অক্সিজেন ও কাপ্তাই রাস্তার মাথার ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। গ্যাস পাওয়ার আশায় চালকরা রাত জেগে গাড়িতেই কাটচ্ছেন।থমে গেছে গৃহস্থালির রান্নাওশুধু পরিবহন খাতই নয়, বাসাবাড়িতেও চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। অনেক এলাকায় সারাদিন মিলছে না গ্যাস, কোথাও কোথাও যা পাওয়া যাচ্ছে তা অতি স্বল্প চাপের। ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।দ্রুত সমাধানের দাবিহঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের অর্থনীতিক গতি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। নাগরিকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে