প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২০
||
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দল দুটি থেকে দাবি করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন কলেজে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে উভয় সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন। তবে এক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার দাবি করেছে। সংঘর্ষে কলেজ থেকে শুরু হলেও তা পরে কলেজের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এসব এলাকাতে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষ একে অপরের উপর লাঠি সোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তবে শিবিরের কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে বলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদাররা জানিয়েছে।
সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শিবিরের তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সেক্রেটারি তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাস, মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নাম জানা গেছে। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী ফয়সাল, রবিন এবং তুহিন আহমেদ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শুনলাম গেটের বাইরে একজন আহত হয়েছে। ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।
এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ায় সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
ইসলামী ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকে পেটানো হয়। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।
অন্যদিকে, ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, শিবিরের হামলায় ছাত্রদল নেতা তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন এবং ফয়সালসহ আরও অনেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাসে সহবস্থানে ছিল, সহবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছশৃঙ্খলতা চলবে না। একথা বলায় শিবিরের ছেলেরা আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তাদের জখম মারাত্মক নয়।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে