প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরতে রাজি সাকিব
||
নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দীর্ঘদিনের বিদেশ অবস্থানের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অন্যায় করেননি। তাই দেশে ফিরে আদালতের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর নেননি তিনি। দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাও তার লক্ষ্য।
সাকিব আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এরপর আর বাংলাদেশে ফেরেননি তিনি।
রয়টার্সকে সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে জানায় যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গেই দেশে ফিরব, আদালতের বিচারসহ যা যা প্রয়োজন, সবকিছুরই মুখোমুখি হব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সাকিব জানান, তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে আগ্রহী। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন।
তার ভাষায়, ‘ক্যাপ্টেন যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয়, তারাই ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করব।’
বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন সাকিব। এর পরপরই বাংলাদেশে থাকা তার মাগুরার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু ‘শান্তি এবং বাংলাদেশের উন্নতির কথা’ বলেছেন এবং এ জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তার ভাষায় ‘বানোয়াট’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তবে সেখান থেকে কোনো জবাব পাননি।
দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করতে চান বলে জানিয়েছেন সাকিব। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৩৯ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে তিনি আর বেশি সময় নিতে চান না।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমি বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটা উপভোগ করছি, ভালো খেলছিও। কিন্তু বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।’
এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর একবার দেশে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন সাকিব। তবে শেষ পর্যন্ত তার ফেরা সম্ভব হয়নি।
সেই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। এরপর দুবাইয়ে নেমে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে যান।
সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী বদলে গেল, আমি জানি না।’
তিনি দাবি করেন, প্রায় ৫৭ দিনের প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে তার দেশে ফেরা আটকে যায়।
পরে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরেকবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি।
সাকিব বলেন, ওই পোস্টের বিষয়টিকেই তখন দেশে ফিরতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, ‘আমি বুঝতে পারি না, বাংলাদেশে আমাকে ঢুকতে না দেওয়ার মানদণ্ড কীভাবে এটা হতে পারে।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে দেশে ফেরা সহজ হবে—এমন পরামর্শও তিনি পেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট- ‘এটা বিবেচনা করার প্রশ্নই আসে না।’
সাকিব জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে।
তিনি দাবি করেন, হত্যার মামলাটি যেদিন করা হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তার ভাষায়, ‘এটা হাস্যকর একটা মামলা।‘
সাকিব আরও দাবি করেন, তদন্তের কারণে গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংকে তার হিসাব রয়েছে বা কত টাকা আটকে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।
তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি গত ১০ বছর দেশের সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া খেলোয়াড়দের একজন, যে সব কর পরিশোধ করেছে, তার অ্যাকাউন্ট যদি দেড় বছর ধরে তদন্তের নামে জব্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমি দেব। কিন্তু তদন্ত করে কিছু না পেলে তো ছেড়ে দেওয়া উচিত।‘
সাকিব জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, বাবা-মাকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা টিকে আছি।‘
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে