প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে ৭০-৮০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা
মোহাম্মদ শফিউল আলম, নির্বাহী পরিচালক ||
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের ৫৫তম গ্র্যান্ড জশনে জুলুছ। আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহোৎসবে রেকর্ড সংখ্যক অর্থাৎ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটবে বলে জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত-আশেকানের উপচে পড়া এই ভিড় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।সোমবার (১৭ আগস্ট) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলুসের সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল তথ্য উপস্থাপন করেন আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম মনজু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আনজুমান ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার।জুলুসের নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গনেতৃত্ব: এবারের জশনে জুলুসে প্রধান নেতৃত্ব প্রদান করবেন দরবারে সিরিকোটের অন্যতম সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মুদ্দাজিল্লুহুল আলী)।উপস্থিতি: জুলুসে আরও উপস্থিত থাকবেন দরবারের সাহেবজাদা হজরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মু. জি. আ.)এবং সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ্ (মু. জি. আ.)।ঐতিহ্য: ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসূল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.) বাংলাদেশে এই ঐতিহাসিক জশনে জুলুসের শুভ প্রবর্তন করেন।সময়সূচি ও রুট ম্যাপতারিখ ও সময়: ২৬ আগস্ট, সকাল ৮:০০ টায় জশনে জুলুসের শুভ সূচনা হবে।প্রারম্ভিক স্থান: চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হবে।রুট: নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন নির্ধারিত জুলুছ ময়দানে গিয়ে জমায়েত হবে।সমাপনী ও দোয়া: দুপুর ১২:০০ টায় বিশেষ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে জোহর নামাজ আদায় শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আখেরি দোয়া পরিচালনা করা হবে।নিরাপত্তা ও বিশেষ শৃঙ্খলা নির্দেশনাজুলুসের সার্বিক শৃঙ্খলা এবং পবিত্রতা রক্ষার্থে কঠোর কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:নিষেধাজ্ঞা: জশনে জুলুসে ড্রামসেট নিয়ে প্রবেশ, নারীদের অংশগ্রহণ এবং খাবার বা কোনো কিছু নিক্ষেপ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।স্বေচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা: পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে আনজুমানের ১০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।উৎসবমুখর পরিবেশ: জুলুসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। নগরীর অলিগলি, সড়কদ্বীপ এবং সড়ক বিভাজকগুলো আনজুমান ট্রাস্টের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সেজে উঠেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে