প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
‘আত্মসমর্পণ করবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন:হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম।
||
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে হওয়া চুক্তি আবারো প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠী ‘আত্মসমর্পণ করবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাসেম এ কথা বলেন।
হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা কাঠামোগত চুক্তির বিরোধিতা করছি এবং এটি বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি।’
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে এ পর্যন্ত চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত জুনের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করে।
চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। শুরুতে নির্দিষ্ট কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ এই প্রক্রিয়া চালু করার কথা রয়েছে।
তবে কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ, বেআইনি, অপমানজনক এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ‘পরীক্ষামূলক এলাকা’ বা সেখান থেকে উদ্ভূত কোনো ব্যবস্থায় সম্মত নই।’
প্রস্তাবিত কোনো যাচাই ব্যবস্থাও প্রত্যাখ্যান করেন কাসেম।
চলতি মাসের শুরুতে রোমে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর লেবাননের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, ‘পরীক্ষামূলক এলাকা’ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন তদারকির জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য দেশের একটি ‘সংক্ষিপ্ত তালিকা’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লেবাননের সেনাবাহিনী অপসারণ করবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনো এর কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
জুনে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার স্মারক এবং একই মাসে ইসরাইল-লেবানন কাঠামোগত চুক্তির পর সহিংসতা কিছুটা কমেছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং বেসামরিক স্থাপনা ও ভবন ধ্বংসের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে জানিয়েছে লেবানন।
ইসরাইলি সেনারা সীমান্তসংলগ্ন লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত নিজেদের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ অ্যাজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। এর মধ্যে নাবাতিয়েহ এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় ইসরাইল হামলা বাড়িয়েছে।
নাঈম কাসেম বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের সাথে হওয়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে তার গোষ্ঠী সমর্থন দিয়েছিল। ওই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল আগের যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমরা মাথা উঁচু করে থাকব এবং আত্মসমর্পণ করব না।’
সূত্র : বাসস
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে