প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি-সুরক্ষা চায় শহীদ পরিবার ও আহতরা
||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা এবং অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতিনিধিরা। তবে বিশেষ কমিটি বলেছে, এই স্বীকৃতির বিষয়টি সংবিধানের তফসিলে রাখা হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাঁরা এসব দাবি জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মোট ৬৩ জন বৈঠকে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে মোট ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁদের সবাই অংশ নেননি। তবে আমন্ত্রণ না পেয়েও ১৪ জন বৈঠকে অংশ নেন।
সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার দাবি
সূত্র জানায়, বৈঠকে বেশির ভাগই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক সুরক্ষা, জুলাই অভ্যুত্থানের দায়মুক্তি এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানান। এ ছাড়া কেউ কেউ নিজস্ব সুযোগ–সুবিধার বিষয়েও কথা বলেন। জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো, আহতদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, জুলাই যোদ্ধারা যাতে আইনি হেনস্তার শিকার না হন সেসব নিশ্চিত করার দাবি জানান অনেকে।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যেন উপযুক্ত জায়গায় ধারণ করা হয়। কেউ কেউ সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাবনায় এটি ধারণ করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নকালে অংশগ্রহণকারী সকল দল এবং শক্তি যেভাবে ঐকমত্য হয়েছে সেভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনাদের প্রস্তাবনাটাও আমরা আজকে লিপিবদ্ধ করব।’
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা এসেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি বলেছে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবেও এই সুরক্ষার বিষয়টি আনা হবে তফসিলের সুনির্দিষ্ট জায়গায়। যাতে তাদের দায়মুক্তি জুলাই সুরক্ষাটা সাংবিধানিকভাবে ধারণ করা যায়।
বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি সবাই করেছেন। কমিটি বলেছে, বিচার প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে। আদালত নির্ধারিত আইন অনুসারেই কাজটা করবে। তাদের সহযোগিতায় তদন্ত, প্রসিকিউশন ইত্যাদি বিষয়ে সরকার সমস্ত কাজ দ্রুততার সঙ্গে করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে জাতীয় ঘোষণাপত্রটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পঠিত হয়েছে, সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে দীর্ঘ ছয়-সাত মাস চর্চার পর সেটি প্রণীত হয়েছে। সেই ঘোষণাপত্রে অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমরা সকল রাজনৈতিক দল স্বীকৃতি দিয়েছি। সেটার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে গেলে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ অবশ্যই আসবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তখন আমরা বলেছি, সেটা সংবিধানের কোন জায়গায় ধারণ করতে হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। যেহেতু এটি আলোচনার বিষয়, আমরা সংবিধানের সংশ্লিষ্ট জায়গায়, তফসিলে সেটা ধারণ করার কথা বলেছি, যাতে গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই ঘোষণাপত্রের স্বীকৃতি থাকে। সেটা থাকলে জুলাই যোদ্ধারা দায়মুক্তি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবেন। আপাতত এটা বলতে পারি।’
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্যই সংবিধান সংশোধন কমিটি সবার বক্তব্য শুনছে। নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সনদ সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, কারা থাকবে বা কোন পদ্ধতিতে গঠিত হবে—সেটা পার্লামেন্টে আলোচনার মধ্য দিয়েই আসবে। আমরা বিল আনব। এখন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও প্রস্তাব চাচ্ছি। সামনে আইনজীবী, বিচারক, সুপ্রিম কোর্ট বার, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গেও কথা বলব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে যে বিষয়ে একমত হওয়া গিয়েছিল, সেখানে দুইটা পদ্ধতি আছে। কিন্তু মধ্যবর্তী আরেকটা পদ্ধতির বিষয়ে আমরা বলেছিলাম, জাতীয় সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই স্তরটা ঠিক করি। প্রথমটা যদি না হয়, দ্বিতীয়টা চেষ্টা করব; দ্বিতীয়টা না হলে তৃতীয়টা। সর্বশেষ অপশন হিসেবে রাষ্ট্রপতির বিধানটা থাকবে—এই প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি। এই প্রসেসগুলো আমরা এখনো শেষ করিনি, চূড়ান্ত করিনি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রস্তাব আসতে পারে। সমাজের বিশেষজ্ঞ শ্রেণির মানুষের কাছ থেকেও প্রস্তাব আসতে পারে। এগুলো স্টাডি করে আমরা এমন একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ধারণ করতে চাই, যেটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সর্বশেষ অপশন হিসেবে রাখার বিষয়টি কমিশনে আমাদের প্রস্তাব ছিল না। অতীতে এ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানে না রাখাই ভালো—এটা আমাদেরই প্রস্তাব।’
বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে