প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম
||
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা হচ্ছে কি না। আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারে এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ দশকেও বাংলাদেশ তা পায়নি।’
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের সামনে ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) নির্যাতনে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে আয়োজিত সভায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। আবরারের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের’ ব্যানারে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারত বলে আসছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়। গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি কীভাবে হচ্ছে, সেখানে সেটা প্রমাণ করতে হবে। এই চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে স্বাক্ষর করতে হবে। এটা শুধু পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়, বরং নদীর যৌথ হিস্যার প্রশ্ন। ফলে নদী ব্যবস্থাপনায়ও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব লাগবে।
নদীতে সব সময় নাব্যতা বজায় রাখতে ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করা, শুষ্ক মৌসুমে ঘাটতি হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নেওয়া—এই ‘গ্যারান্টি ক্লজ’সহ গঙ্গা চুক্তি নতুন করে করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে সমুন্নত করতে চাইলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, তাহলে গঙ্গা-তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সমভাবে ও ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে।
বক্তব্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না, সরকার গঙ্গার পানিচুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কী করে সম্পাদন করে, সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে, সেটা দেখতে হবে।
সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বাংলাদেশের স্বার্থ কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না বলে অভিযোগ নাহিদের। তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।’
নাহিদ বলেন, আবরার ফাহাদ তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি, তৎকালীন সরকার ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। ভারত ফেনী নদীকে কেন্দ্র করে যে চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদন করেছিল বা করতে যাচ্ছিল, সেটা নিয়ে সমালোচনা করেছিল মাত্র। সেই সমালোচনার কারণে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাটা যে ভারতীয় আগ্রাসনেরই এক্সটেনশন ছিল, সেটা সুস্পষ্ট হয়েছিল আবরার হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুনিদের ফাঁসির দণ্ড অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে বলে আমরা মনে করি।’
আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক, এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও মাহফুজ আলম, এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, যুবসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাবেক সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে