প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
রাঙ্গুনিয়ায় ধানের জমিতে 'অতন্দ্র জরিপ' অনুষ্ঠিত: পরিবেশবান্ধব উপায়ে পোকা দমনে জোর
মোহাম্মদ আব্বাস আলী চৌধুরী মুন্না , রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ||
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ পোমরা গ্রামে ধানের জমিতে ফসলের স্বাস্থ্য রক্ষা ও পোকামাকড় দমনে এক ব্যতিক্রমী 'অতন্দ্র জরিপ' অনুষ্ঠিত হয়েছে।উক্ত অতন্দ্র জরিপ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুকুমার তালুকদার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার প্রনব চন্দ্র মজুমদার এবং উপসহকারী কৃষি অফিসার লুৎফুর নেছা। এছাড়াও কৃষি ডিপ্লোমা ইন্টার্নশিপে থাকা ২০ জন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ২৫ জন কৃষক প্রত্যক্ষভাবে এই জরিপ কার্যক্রমে অংশ নেন।জরিপ চলাকালে মাঠে আধুনিক ও প্রথাগত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, পানি পাত্র পদ্ধতি এবং হাত জালের ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষেতের উপকারী ও ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্ত ও পরিমাপ করা হয়।ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের চেয়ে উপকারী পোকার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন:> "সাধারণত ফসলের মাঠে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগই থাকে উপকারী পোকা এবং মাত্র এক ভাগ থাকে ক্ষতিকর পোকা। কিন্তু অনেক কৃষকই সামান্য ক্ষতিকর পোকা দেখামাত্রই ঢালাওভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগ করে ফেলেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের চরম ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি অনিরাপদ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে।"> কৃষকদের পরিবেশবান্ধব বালাই ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, চারা রোপণের দিনই জমিতে পার্চিং (ডালপালা বা খুঁটি পুতে দেওয়া) করা উচিত। এতে বিভিন্ন পাখি বসে সহজেই ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই ক্ষতিকর পোকা কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের পোকামাকড়ের আক্রমণের ধরন, ক্ষতিকর প্রভাব এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে অল্প খরচে ফসল রক্ষা করা যায়—তা সহজে বুঝতে পেরে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকারী কৃষকরা সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে