প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
হালিশহর দরবার শরীফের পীরে মোকাম্মেল শাহ সুফি ছৈয়দ শামসুল হক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন (রহ.)-এর ৭ম বার্ষিক ফাতেহা শরীফ আজ
মোহাম্মদ রাকিব ||
নিজস্ব প্রতিবেদকআজ ৮ জমাদিউল আউয়াল। হালিশহর দরবার শরীফের পীরে মোকাম্মেল, সদরুশ শরীয়ত, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও তরিক্বতের সাধক হযরত শাহ সুফি ছৈয়দ শামসুল হক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন (রহ.)-এর ৭ম বার্ষিক ফাতেহা শরীফ।২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, ১ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরি, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে ৮২ বছর বয়সে পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠরত অবস্থায় তিনি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে ফিরে যান। তাঁর ইন্তেকালে অসংখ্য ভক্ত, মুরিদান, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।ইসলাম ও তরিক্বতের প্রচারে নিবেদিত জীবনহযরত শাহ সুফি ছৈয়দ শামসুল হক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন (রহ.) ছিলেন ইসলাম, তরিক্বত ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রচারে নিবেদিতপ্রাণ একজন ব্যক্তিত্ব। পবিত্র হজব্রত পালন ছাড়াও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। এসব সফরের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ও তরিক্বতের শিক্ষা, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং মানবকল্যাণের বার্তা প্রচারে ভূমিকা রাখেন।তাঁর জীবন ও কর্ম অসংখ্য মানুষের কাছে ধর্মীয় অনুশাসন, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং পীর-মুরিদ সম্পর্কের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়েছে।ইন্তেকালে শোকের ছায়া, জানাজায় মানুষের ঢলতাঁর ইন্তেকালে স্ত্রী, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে, অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং লক্ষ লক্ষ ভক্ত-মুরিদান গভীর শোকের মধ্যে নিমজ্জিত হন। তাঁর ওফাতের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।তাঁর পবিত্র দেহ মোবারক হালিশহর দরবার শরীফে আনার পর শেষবারের মতো প্রিয় পীরকে একনজর দেখার জন্য অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান সেখানে সমবেত হন। অনেকেই অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটান। অন্যদিকে, তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কুরআন মজিদ তিলাওয়াত ও দোয়া-দরুদে মশগুল থাকেন ভক্ত-অনুসারীরা।তাঁর জানাজায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন দরবার শরীফের গদ্দিনশীন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তাঁর প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।স্মৃতিতে অম্লান এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বসময়ের পরিক্রমায় সাত বছর অতিবাহিত হলেও ভক্ত-মুরিদানদের হৃদয়ে হযরত শাহ সুফি ছৈয়দ শামসুল হক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন (রহ.)-এর স্মৃতি আজও অম্লান। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও আধ্যাত্মিক সাধনার স্মরণে বার্ষিক ফাতেহা শরীফ ভক্তদের জন্য আত্মশুদ্ধি, স্মৃতিচারণ ও দোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।এই পবিত্র দিনে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিনীত প্রার্থনা—আল্লাহ পাক তাঁর সকল খেদমত ও নেক আমল কবুল করুন, তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করে দিন, সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, ভক্ত-মুরিদান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবরে জামিল দান করুন।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে