প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
||
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে। এর মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষ বহাল রেখে সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি এবং ওই কাঠামোর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ধারণাও রয়েছে। তবে কোনো প্রস্তাবেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতি, কাঠামো, আকার, কার্যপরিধি ও এখতিয়ার নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কমিটির কাছে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব আসেনি।
আলোচনায় উঠে আসা একটি ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেটি সংসদের একই মেয়াদে বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করে তাকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচনের পর তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। একইভাবে স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবস্থা রাখার কথা আলোচিত হয়েছে।
এসব ধারণা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিবেদন তৈরির সময় বিভিন্ন মতামত ও বিকল্প তুলে ধরা হবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিল আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া ও এখতিয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। লিখিত মতামত পেলে সেগুলো যাচাই করে বিবেচনা করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে বাইরে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময় যে ধারণা উঠে এসেছিল, সে অনুযায়ী বিচার বিভাগকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পটি বাদ দিয়ে কীভাবে সবার সম্মতির ভিত্তিতে সরকার গঠন করা যায়, তা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে। কমিটি চায়, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পথ বের করতে।
২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অনেকেই এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত না করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তার দাবি, কমিটির সদস্যদের মধ্যেও এ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলকে কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান আগেও জানানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কোনো বিষয়ে তাদের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত পরিবর্তন কিংবা শিথিল করার ইচ্ছা থাকলে কমিটিতে এসে তা জানাতে হবে। তখন বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বৈঠকেই বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। সংসদেও তাদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে