প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
||
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা পাশ করেছে, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। এই ফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের যত্ন এবং পরিবারের সহযোগিতাও রয়েছে।
যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ সময়ে নিজেকে একা ভাবার সুযোগ নেই। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও সবটুকু যোগ্যতা বোঝা যায় না, ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয়ে যায় না। কিছুটা সময় নিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আবার এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের ফলাফল সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। পাসের হার উদ্বেগজনক হলেও এ ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। এখন এসব ঘাটতি কাটিয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করাই লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কম পাসের হার কোনো অর্জন নয়। শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতায় ভালো ফল করলেই সেটি হবে প্রকৃত সাফল্য।
শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না, প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন যথাযথ হচ্ছে কিনা—সবকিছু গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। পরীক্ষায় সততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালোভাবে শেখার সুযোগ তৈরি করাও দায়িত্বের অংশ।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে দ্রুত আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বা দুটি বিষয়ের জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থীরা যেন প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত নতুন করে চেষ্টা করতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ সময়ে শিক্ষার্থীদের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, তা বুঝে তাদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানের কথা শুনতে হবে, অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে। পরীক্ষার ফল যা-ই হোক, পরিবারের কাছে সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা যে অটুট রয়েছে, তা তাকে অনুভব করাতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালোভাবে শেখার সুযোগ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাক। কেউ পিছিয়ে পড়লে তাকে আবার এগিয়ে যাওয়ার সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই এ দায়িত্ব পালন করতে চায় সরকার।
কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে