চিটাগাং টুডে

নির্বাচন

দলীয় প্রতীক ছাড়াই হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা!

ঢাকা: আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলীয় প্রতীক ছাড়াই এবারের ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ বড় ধরনের সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত প্রস্তাবটি হলো—বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল থেকে এই ভোটে প্রার্থী হতে পারবেন না।প্রস্তাবিত এই আইন সংসদে পাস হলে সাড়ে ৭ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সরাসরি নির্বাচনী রেস থেকে ছিটকে পড়বেন। এছাড়া ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদেরও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করেছে ইসি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সব আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধনের এই খসড়া প্রস্তাব শিগগিরই সরকারের কাছে পাঠাবে কমিশন।'আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত', ফুঁসে উঠছেন শিক্ষকরা ইসির এই প্রস্তাবকে 'আত্মঘাতী' ও 'বুমেরাং' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাজনীতিবিদদের চেয়ে শিক্ষকরা সমাজে ভিন্নধর্মী ও সৎ সেবা দিতে পারেন, যা একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে ওইভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত আত্মঘাতী।"তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, "জাতীয়করণ করার আগে যদি আমাদের ওপর সরকারি সব নিয়মকানুন জোর করে চাপিয়ে দিতে চান, তবে সেটি বুমেরাং হতে পারে। আমরা শিক্ষকরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না।"দুই নির্বাচনকে একই মাপে ফেলা ঠিক নয়: জেসমিন টুলী সংসদ নির্বাচনের আইনের সঙ্গে মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশোধনের এই চেষ্টাকে ভালো চোখে দেখছেন না খোদ নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী বলেন, "সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। একটির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সরকার গঠিত হয়, অন্যটি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা দেয়। দুই নির্বাচনের কাঠামো ও উদ্দেশ্য যেখানে ভিন্ন, সেখানে যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠি একই করা ঠিক হবে না। এতে তৈরি হতে পারে নতুন বিরোধ।"আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার বিষয়েও দ্বিমত পোষণ করেন তিনি। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সে সময় সরকার ও ইসির মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হলেও পরে অধিকসংখ্যক র‍্যাব মোতায়েন করে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছিল। এখন আইনে যদি সশস্ত্র বাহিনী ঢোকানো হয়, তবে প্রতি নির্বাচনেই জনগণ সেনাবাহিনী দাবি করবে। ইসি যদি তখন সেনা মোতায়েন করতে না পারে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, তবে পুরো দায় ইসির ওপরই আসবে।"আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভোটের মাঠে নামতে চায় ইসি। তবে এই আইন সংশোধনীর প্রস্তাব রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন কী সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

দলীয় প্রতীক ছাড়াই হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা!