চট্টগ্রাম    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
চিটাগাং টুডে
সর্বশেষ
বিশ্ব বাজারে আবার বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ব বাজারে আবার বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দিয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে আজ মঙ্গলবার থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি এক দশমিক ১২ ডলার বেড়ে ৮৪ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিন ব্রেন্টের দাম সাত শতাংশ কমে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৭ সেন্ট বা এক শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন এ তেলের দাম পাঁচ শতাংশ কমে প্রায় এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বিরোধ মেটাতে আলোচনা চলাকালে তিনি নতুন করে ইরানে কোনো হামলা চালানোর নির্দেশ দেবেন না। তার ওই ঘোষণার পরই তেলের দাম কমে গিয়েছিল। তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্য নাকচ করে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের কোনো আলোচনা চলছে না এবং কোনো বৈঠকেরও পরিকল্পনা নেই। এরপরই তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, আর সেই প্রভাবে তেলের দামও বাড়ে। সূত্র : বিবিসি

মৃত্যুর আগে কেবিনে শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে তোলপাড়

দুই ডাক্তার ভাইয়ের সামনেই নিভে গেল ছোট ভাই / মৃত্যুর আগে কেবিনে শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে তোলপাড়

ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছোট ভাইকে রেডিয়েশন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন দুই চিকিৎসক ভাই। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ফিডিং ও খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়নি, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করেই এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করানো হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রসহ আট বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবশেষে ২২ জুলাই সকাল ৯টায় আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত রোগীকে কেবিনেই রাখা হয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার পরও প্রায় ৩০ মিনিট চিকিৎসক না আসায় কেবিনেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।চট্টগ্রামের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন মৃত রোগী সুবিমল দাশ সুবীরের পরিবার। হাসপাতালটি অক্সিজেন-কুয়াইশ রোডের অনন্যা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডা. আবীর দাশ তার ভাইয়ের চিকিৎসার শুরু থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী সুবিমল ‘থ্যালামিক গ্লাইওমা’ বা মস্তিষ্কের গভীরে হওয়া এক ধরনের ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। চার বছর আগে বিয়ে করা সুবিমল দেড় বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রেডিয়েশন থেরাপির জন্য সুবিমলকে এভারকেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই, পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় একের পর এক অব্যবস্থাপনা শুরু হয়।ভর্তি থেকেই অব্যবস্থাপনাডা. আবীর দাশ বলেন, কেবিনে নেওয়ার পরপরই দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সকে জানানো হয়, রোগী দুপুর ১২টার পর আর কোনো ফিডিং পাননি। দ্রুত ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হলেও দীর্ঘ সময় হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।তার দাবি, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় রোগীকে প্রথম ফিডিং দেওয়া হয়। সেটিও ছিল মাত্র ২০০ মিলিলিটার ডাবের পানি।খিঁচুনির ওষুধ নিয়েও অবহেলাডা. আবীর দাশ জানান, তার ভাই প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টায় নিয়মিত খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ গ্রহণ করতেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার নির্ধারিত ওষুধ সময়মতো দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিল। তারা বারবার নিজেদের কেনা ওষুধ রোগীকে দেওয়ার অনুরোধ করলেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাইরের ওষুধ দেওয়া যাবে না, হাসপাতালের ফার্মেসির ওষুধই ব্যবহার করতে হবে। তার অভিযোগ, সন্ধ্যা ৬টার গুরুত্বপূর্ণ ডোজ না দিয়ে রাত ৯টার দিকে একসঙ্গে দুই ধরনের খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রোগী অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়েন। এই অবস্থায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে বারবার এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার কথা বলা হলেও তিনি সেদিন তাতে সম্মতি দেননি।এমআরআই ও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নপরদিন ২১ জুলাই সকালে নিউরোসার্জনসহ চারজন বিশেষজ্ঞ রোগীকে দেখেন। পরে নিউরোসার্জন ও রেডিও-অনকোলজিস্ট এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার সিদ্ধান্ত দেন।ডা. আবীর দাশ বলেন, তিনি চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন, এর আগে রোগীর তিনটি এমআরআই ও ছয়টি সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রোগী এমআরআই করার মতো উপযুক্ত কি না। চিকিৎসকেরা তাকে উপযুক্ত বলেই মত দেন।তার ভাষ্য, রোগীর আগে মেনিনজাইটিস থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের সাত দিন কোনো জ্বর ছিল না। রোগীর ভাইটালস স্বাভাবিক ছিল। সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) আগের ৩৮ থেকে কমে ৬-এ নেমে এসেছিল। যদিও গত এক মাস ধরে রোগীর গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) কম ছিল।ডা. আবীর দাশ আরও অভিযোগ করেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের আটজন অধ্যাপক রোগীকে ‘নন-অপারেবল’ বলে মত দিলেও এভারকেয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জন ব্রেইন টিউমার অপসারণের সিদ্ধান্ত দেন।তার দাবি, ২১ জুলাই এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার পর রাতে রোগীকে কেবিনে ফিরিয়ে আনার পর থেকেই উচ্চমাত্রার জ্বর শুরু হয়। নাপা ইনজেকশন দিয়েও সেই জ্বর কমানো যায়নি।সকাল ৯টার সিদ্ধান্ত, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পরও আইসিইউ নয়ডা. আবীর দাশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই সকাল ৯টায় রেডিয়েশন বিভাগের চিকিৎসক ও আইসিইউর চিকিৎসক সুবিমলকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এতে সম্মতি দেওয়া হয়।তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কোনো ধরনের বিলম্ব না ঘটে, সে জন্য আগেই হাসপাতালের হিসাবে অগ্রিম অর্থ জমা রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, টাকার কারণে চিকিৎসা বা আইসিইউতে স্থানান্তর যেন আটকে না থাকে।তার অভিযোগ, সকাল ৯টায় আইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত রোগীকে কেবিনেই রাখা হয়।স্যাচুরেশন কমার পরও চিকিৎসক আসেননিডা. আবীর দাশ জানান, ২২ জুলাই দুপুর ২টায় রোগীকে ফিডিং দেওয়া হয়। মাত্র ২০ মিনিট পর তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন দ্রুত কমে যায়।তিনি বলেন, তখন তার মা টানা প্রায় ৩০ মিনিট চিকিৎসকদের ডাকলেও কেউ কেবিনে আসেননি। চিকিৎসকেরা যখন আসেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিকেল ২টা ৩৫ মিনিটে কেবিনেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে প্রতি দুই ঘণ্টা পর রোগীর অবস্থান পরিবর্তন, টয়লেট পরিষ্কারসহ মৌলিক নার্সিং সেবাও নিয়মিত পাওয়া যায়নি। ফ্লোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আয়া বা সহায়ক কর্মীদের সহজে পাওয়া যেত না বলেও তিনি দাবি করেন।ডা. আবীর দাশ বলেন, চিকিৎসাকালে আরও অনেক অব্যবস্থাপনা হয়েছে, যা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তার প্রশ্ন, ‘সকাল ৯টায় আইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, কিন্তু আমার ভাই বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত কেবিনেই কেন ছিল?’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই ভাইই চিকিৎসক। আমরা যদি এমন অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ চিকিৎসা পাবে? সেবার নামে এখানে বাণিজ্যিক মানসিকতা পরিচালিত হচ্ছে।’ডা. আবীর দাশ বলেন, ‘এটি আসলে একটি সম্মিলিত অব্যবস্থাপনার ফসল। এর প্রতিকারের জন্য কোনো লড়াই করার আগ্রহ আমার নেই। আমি কোথাও কোনো অভিযোগও করতে চাই না। কারণ এখন অনেকেই হয়তো পাশে থাকার কথা বলবেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। করপোরেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ করার ইচ্ছেও আমার নেই।’সামাজিক মাধ্যমে চিকিৎসকদের ক্ষোভডা. আবীর দাশের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টটির নিচে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন চিকিৎসকও।চিকিৎসক মঈনুল আনাম লিখেছেন, ‘আমার প্রয়াত বাবার যখন খাদ্যনালীর ক্যান্সার হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম এভারকেয়ারে রেডিওথেরাপি দিয়েছিলাম। সেখানকার ব্যবস্থাপনা খুবই বাজে, নামমাত্র ক্যান্সার বিভাগ চলছে এবং তেমন ভালো কোনো কনসালট্যান্টও নেই।’চিকিৎসক শম্পা দত্ত বিশ্বাসও তার মায়ের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেন, ‘আমার মায়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ২৬ দিনের একটা লড়াই। আমরা, বিশেষ করে আমি, কতটা অসহায় ছিলাম! কারণ একটাই—আমি একজন দুর্ভাগ্যবান ডাক্তার। আইসিইউতে টিউব দিতে (ইনটুবেশন) গিয়ে ফুসফুসে আঘাত পেয়ে বাতাস জমে যায় (ট্রমেটিক নিউমোথোরাক্স)। এরপর ক্যানুলার জায়গায় একটা ফোসকা হয়েছিল, যেটা সাধারণ ড্রেসিং করলেই ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু তারা বলল, প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে। মায়ের এত বেশি জ্বর ছিল যে তিনি এই ধকল সহ্যই করতে পারেননি। শকের রোগীকে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর কিডনি পুরোপুরি অচল করে দেয়। সাধারণ জ্বরের একজন রোগী কীভাবে যে ২৬ দিনের মধ্যে মৃত্যুর দিকে চলে গেলেন! এটা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা ছিল না। অথচ প্রতিদিন ১,২৫,০০০ টাকা বিল আসত। সবকিছু হয়তো ওপরওয়ালার ইচ্ছা। কিন্তু অনিয়ম ও অবহেলার কারণে আমার মা যে কী কষ্টটা পেলেন! এটার হিসাব কারা দেবে? ডাক্তারদের কিছুটা মানবিক হতে হয়। শুধু একটা প্রতিষ্ঠানের অধীনে থেকে মোটা বেতনের চাকরি করলেই হয় না, দিন শেষে ওপরওয়ালার কাছে হিসাব ঠিকই দিতে হবে।’বুশরা সিকদার নামে একজন বলেছেন, ‘আমার হাজবেন্ডের পায়ের অপারেশনের ফলোআপ ড্রেসিংয়ে আমি নিজে বুঝতে পারছিলাম সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়েছে। এভারকেয়ারের সার্জন ফরমান আলি এটা খুব হালকাভাবে ইগনোর করলেন। পায়ের ইনফেকশনে অনেক ভুগছিল আমার হাজব্যান্ড। পরে ইবনে সিনায় ডা. হাসানুজ্জামান স্যারের চিকিৎসায় আল্লাহর রহমতে ঠিক হয়েছে।’পুনম চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমার মেয়েকে এই এভারকেয়ার হসপিটালের ভুল চিকিৎসার জন্য পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে।’হাসপাতাল বলছে, বক্তব্য পরে জানাবেঅভিযোগের বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল, চট্টগ্রামের বক্তব্য জানতে হাসপাতালটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে তাদের বক্তব্য জানাবে।

বিরোধী দল দমনে সরকার বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিরোধী দল দমনে সরকার বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা মনে করেছিলাম নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী দলকে দমনের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল, তার পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে একটি নির্বাচিত সরকারও বিরোধী দলকে দমনে পূর্বের সেই বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। রোববার (২ আগস্ট) বিকালে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে। কিন্তু বিরোধী দলের কর্মসূচিতে এভাবে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। হবিগঞ্জে আমাদের কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিকবার আমাদের নেতাকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনা অপ্রত্যাশিত এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপির জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনফেনীতে এনসিপি নেতার পদত্যাগ দেবিদ্বার পৌরসভার সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে পৌর কর আদায় করতে হবে। তবে এক্তিয়ারের বাইরে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করা যাবে না। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের অনুমোদন এবং নির্ধারিত কর হার ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো স্থান থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে না।

কোন ভিডিও নেই !
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক বেশি। তবে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসগুলো আশানুরূপ অবস্থানে নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সার আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। এ ছাড়া সার আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি ডলার। অবশ্য ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রামে পৌঁছলেন শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী

দীর্ঘ ২ বছর পর চট্টগ্রামে পৌঁছলেন শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী / চট্টগ্রামে পৌঁছলেন শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী

দীর্ঘ ২ বছর পর চট্টগ্রামে পৌঁছলেন শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারীচট্টগ্রাম প্রতিনিধি:আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ দুই বছর পর প্রিয় ইসলামী আলোচক ও আহলে বাইতপ্রেমী বক্তা শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী চট্টগ্রামের জমিনে এসে পৌঁছেছেন।তাঁর আগমন উপলক্ষে ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শায়খকে কাছে পেয়ে উপস্থিত মুসল্লি ও অনুসারীদের মাঝে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।জানা গেছে, আগামী ২৬ জুন চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দান-এ অনুষ্ঠিতব্য শাহাদাতে কারবালা, ইশকে রাসূল ﷺ এবং আহলে বাইতের শানবিষয়ক মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান পেশ করবেন শায়খ সাইফুল আজম আল-আজহারী।অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানান, শায়খের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর দরদভরা আলোচনা ও আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার বার্তা উপস্থিত মুসলমানদের হৃদয়ে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করবে।ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উক্ত মাহফিলে উপস্থিত থেকে দ্বীনি আলোচনা শ্রবণ ও কারবালার শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মৃত্যুর আগে কেবিনে শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে তোলপাড়

দুই ডাক্তার ভাইয়ের সামনেই নিভে গেল ছোট ভাই / মৃত্যুর আগে কেবিনে শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে তোলপাড়

ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছোট ভাইকে রেডিয়েশন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন দুই চিকিৎসক ভাই। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো ফিডিং ও খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়নি, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করেই এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করানো হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রসহ আট বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবশেষে ২২ জুলাই সকাল ৯টায় আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত রোগীকে কেবিনেই রাখা হয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার পরও প্রায় ৩০ মিনিট চিকিৎসক না আসায় কেবিনেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।চট্টগ্রামের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন মৃত রোগী সুবিমল দাশ সুবীরের পরিবার। হাসপাতালটি অক্সিজেন-কুয়াইশ রোডের অনন্যা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডা. আবীর দাশ তার ভাইয়ের চিকিৎসার শুরু থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী সুবিমল ‘থ্যালামিক গ্লাইওমা’ বা মস্তিষ্কের গভীরে হওয়া এক ধরনের ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। চার বছর আগে বিয়ে করা সুবিমল দেড় বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রেডিয়েশন থেরাপির জন্য সুবিমলকে এভারকেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই, পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় একের পর এক অব্যবস্থাপনা শুরু হয়।ভর্তি থেকেই অব্যবস্থাপনাডা. আবীর দাশ বলেন, কেবিনে নেওয়ার পরপরই দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সকে জানানো হয়, রোগী দুপুর ১২টার পর আর কোনো ফিডিং পাননি। দ্রুত ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হলেও দীর্ঘ সময় হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।তার দাবি, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় রোগীকে প্রথম ফিডিং দেওয়া হয়। সেটিও ছিল মাত্র ২০০ মিলিলিটার ডাবের পানি।খিঁচুনির ওষুধ নিয়েও অবহেলাডা. আবীর দাশ জানান, তার ভাই প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টায় নিয়মিত খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ গ্রহণ করতেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার নির্ধারিত ওষুধ সময়মতো দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিল। তারা বারবার নিজেদের কেনা ওষুধ রোগীকে দেওয়ার অনুরোধ করলেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাইরের ওষুধ দেওয়া যাবে না, হাসপাতালের ফার্মেসির ওষুধই ব্যবহার করতে হবে। তার অভিযোগ, সন্ধ্যা ৬টার গুরুত্বপূর্ণ ডোজ না দিয়ে রাত ৯টার দিকে একসঙ্গে দুই ধরনের খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রোগী অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়েন। এই অবস্থায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে বারবার এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার কথা বলা হলেও তিনি সেদিন তাতে সম্মতি দেননি।এমআরআই ও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নপরদিন ২১ জুলাই সকালে নিউরোসার্জনসহ চারজন বিশেষজ্ঞ রোগীকে দেখেন। পরে নিউরোসার্জন ও রেডিও-অনকোলজিস্ট এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার সিদ্ধান্ত দেন।ডা. আবীর দাশ বলেন, তিনি চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন, এর আগে রোগীর তিনটি এমআরআই ও ছয়টি সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় রোগী এমআরআই করার মতো উপযুক্ত কি না। চিকিৎসকেরা তাকে উপযুক্ত বলেই মত দেন।তার ভাষ্য, রোগীর আগে মেনিনজাইটিস থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের সাত দিন কোনো জ্বর ছিল না। রোগীর ভাইটালস স্বাভাবিক ছিল। সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) আগের ৩৮ থেকে কমে ৬-এ নেমে এসেছিল। যদিও গত এক মাস ধরে রোগীর গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) কম ছিল।ডা. আবীর দাশ আরও অভিযোগ করেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের আটজন অধ্যাপক রোগীকে ‘নন-অপারেবল’ বলে মত দিলেও এভারকেয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জন ব্রেইন টিউমার অপসারণের সিদ্ধান্ত দেন।তার দাবি, ২১ জুলাই এমআরআই উইথ কনট্রাস্ট করার পর রাতে রোগীকে কেবিনে ফিরিয়ে আনার পর থেকেই উচ্চমাত্রার জ্বর শুরু হয়। নাপা ইনজেকশন দিয়েও সেই জ্বর কমানো যায়নি।সকাল ৯টার সিদ্ধান্ত, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পরও আইসিইউ নয়ডা. আবীর দাশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই সকাল ৯টায় রেডিয়েশন বিভাগের চিকিৎসক ও আইসিইউর চিকিৎসক সুবিমলকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এতে সম্মতি দেওয়া হয়।তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কোনো ধরনের বিলম্ব না ঘটে, সে জন্য আগেই হাসপাতালের হিসাবে অগ্রিম অর্থ জমা রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, টাকার কারণে চিকিৎসা বা আইসিইউতে স্থানান্তর যেন আটকে না থাকে।তার অভিযোগ, সকাল ৯টায় আইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত রোগীকে কেবিনেই রাখা হয়।স্যাচুরেশন কমার পরও চিকিৎসক আসেননিডা. আবীর দাশ জানান, ২২ জুলাই দুপুর ২টায় রোগীকে ফিডিং দেওয়া হয়। মাত্র ২০ মিনিট পর তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন দ্রুত কমে যায়।তিনি বলেন, তখন তার মা টানা প্রায় ৩০ মিনিট চিকিৎসকদের ডাকলেও কেউ কেবিনে আসেননি। চিকিৎসকেরা যখন আসেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিকেল ২টা ৩৫ মিনিটে কেবিনেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে প্রতি দুই ঘণ্টা পর রোগীর অবস্থান পরিবর্তন, টয়লেট পরিষ্কারসহ মৌলিক নার্সিং সেবাও নিয়মিত পাওয়া যায়নি। ফ্লোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আয়া বা সহায়ক কর্মীদের সহজে পাওয়া যেত না বলেও তিনি দাবি করেন।ডা. আবীর দাশ বলেন, চিকিৎসাকালে আরও অনেক অব্যবস্থাপনা হয়েছে, যা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তার প্রশ্ন, ‘সকাল ৯টায় আইসিইউতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, কিন্তু আমার ভাই বিকেল ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত কেবিনেই কেন ছিল?’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই ভাইই চিকিৎসক। আমরা যদি এমন অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ চিকিৎসা পাবে? সেবার নামে এখানে বাণিজ্যিক মানসিকতা পরিচালিত হচ্ছে।’ডা. আবীর দাশ বলেন, ‘এটি আসলে একটি সম্মিলিত অব্যবস্থাপনার ফসল। এর প্রতিকারের জন্য কোনো লড়াই করার আগ্রহ আমার নেই। আমি কোথাও কোনো অভিযোগও করতে চাই না। কারণ এখন অনেকেই হয়তো পাশে থাকার কথা বলবেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। করপোরেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ করার ইচ্ছেও আমার নেই।’সামাজিক মাধ্যমে চিকিৎসকদের ক্ষোভডা. আবীর দাশের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টটির নিচে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন চিকিৎসকও।চিকিৎসক মঈনুল আনাম লিখেছেন, ‘আমার প্রয়াত বাবার যখন খাদ্যনালীর ক্যান্সার হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম এভারকেয়ারে রেডিওথেরাপি দিয়েছিলাম। সেখানকার ব্যবস্থাপনা খুবই বাজে, নামমাত্র ক্যান্সার বিভাগ চলছে এবং তেমন ভালো কোনো কনসালট্যান্টও নেই।’চিকিৎসক শম্পা দত্ত বিশ্বাসও তার মায়ের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেন, ‘আমার মায়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ২৬ দিনের একটা লড়াই। আমরা, বিশেষ করে আমি, কতটা অসহায় ছিলাম! কারণ একটাই—আমি একজন দুর্ভাগ্যবান ডাক্তার। আইসিইউতে টিউব দিতে (ইনটুবেশন) গিয়ে ফুসফুসে আঘাত পেয়ে বাতাস জমে যায় (ট্রমেটিক নিউমোথোরাক্স)। এরপর ক্যানুলার জায়গায় একটা ফোসকা হয়েছিল, যেটা সাধারণ ড্রেসিং করলেই ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু তারা বলল, প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে। মায়ের এত বেশি জ্বর ছিল যে তিনি এই ধকল সহ্যই করতে পারেননি। শকের রোগীকে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর কিডনি পুরোপুরি অচল করে দেয়। সাধারণ জ্বরের একজন রোগী কীভাবে যে ২৬ দিনের মধ্যে মৃত্যুর দিকে চলে গেলেন! এটা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা ছিল না। অথচ প্রতিদিন ১,২৫,০০০ টাকা বিল আসত। সবকিছু হয়তো ওপরওয়ালার ইচ্ছা। কিন্তু অনিয়ম ও অবহেলার কারণে আমার মা যে কী কষ্টটা পেলেন! এটার হিসাব কারা দেবে? ডাক্তারদের কিছুটা মানবিক হতে হয়। শুধু একটা প্রতিষ্ঠানের অধীনে থেকে মোটা বেতনের চাকরি করলেই হয় না, দিন শেষে ওপরওয়ালার কাছে হিসাব ঠিকই দিতে হবে।’বুশরা সিকদার নামে একজন বলেছেন, ‘আমার হাজবেন্ডের পায়ের অপারেশনের ফলোআপ ড্রেসিংয়ে আমি নিজে বুঝতে পারছিলাম সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়েছে। এভারকেয়ারের সার্জন ফরমান আলি এটা খুব হালকাভাবে ইগনোর করলেন। পায়ের ইনফেকশনে অনেক ভুগছিল আমার হাজব্যান্ড। পরে ইবনে সিনায় ডা. হাসানুজ্জামান স্যারের চিকিৎসায় আল্লাহর রহমতে ঠিক হয়েছে।’পুনম চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমার মেয়েকে এই এভারকেয়ার হসপিটালের ভুল চিকিৎসার জন্য পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে।’হাসপাতাল বলছে, বক্তব্য পরে জানাবেঅভিযোগের বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল, চট্টগ্রামের বক্তব্য জানতে হাসপাতালটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে তাদের বক্তব্য জানাবে।

লাইফ স্টাইল

কোন পোস্ট নেই !
অনলাইন জরিপ
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

সাহিত্য

কোন পোস্ট নেই !