চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরে এবার প্রকাশ্য দিবালোকে এক ইন্টারনেট সেবাদানকারী (ISP) প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার আগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলা হয়— ‘চট্টগ্রামে ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে নগরের একটি নামী ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আদিল বিন মামুন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি ও চাঁদা দাবি
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুদিন আগে ব্যবসায়ী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত মোবাইলে একটি বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন নিজেকে পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। সে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে, চট্টগ্রামে শান্তিতে ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
দিনদপুরে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট
চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেই ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। অফিসের কম্পিউটার, সার্ভার ও মূল্যবান আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি, অফিসে থাকা নগদ টাকা লুট করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। যাওয়ার সময় তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার জন্য চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে যায়।
নেপথ্যে কুখ্যাত সন্ত্রাসী 'ডেভিড ইমন'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চাঁদা দাবি ও হামলার মাস্টারমাইন্ড মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ড অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই বর্বরোচিত হামলার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরে এবার প্রকাশ্য দিবালোকে এক ইন্টারনেট সেবাদানকারী (ISP) প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার আগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলা হয়— ‘চট্টগ্রামে ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে নগরের একটি নামী ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আদিল বিন মামুন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি ও চাঁদা দাবি
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুদিন আগে ব্যবসায়ী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত মোবাইলে একটি বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন নিজেকে পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। সে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে, চট্টগ্রামে শান্তিতে ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
দিনদপুরে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট
চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেই ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। অফিসের কম্পিউটার, সার্ভার ও মূল্যবান আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি, অফিসে থাকা নগদ টাকা লুট করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। যাওয়ার সময় তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার জন্য চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে যায়।
নেপথ্যে কুখ্যাত সন্ত্রাসী 'ডেভিড ইমন'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চাঁদা দাবি ও হামলার মাস্টারমাইন্ড মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ড অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই বর্বরোচিত হামলার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন