রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে: রাশেদ খান

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে: রাশেদ খান

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে আবু সাঈদের মেমোরি স্ট্রিট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম স্টেকহোল্ডার এবং যারা বিরোধী দলে আছে তারাও গণঅভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডার। আমি এর আগেই আমাদের বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রেখেছি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য পাচ্ছি জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই বিরোধী দলীয় জোট তারা লং মার্চের ডাক দিচ্ছে, আর আওয়ামী লীগ এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাশকতা করার উদ্দেশ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান থাকবে, আপনারা এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। শেখ হাসিনা এবং তাঁর তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘আপনারা দেখেন নাই যে ক্যান্টনমেন্ট থানার মতো একটি জায়গায় সেখানে এমন একজন ওসি ছিল, সেই ওসির বক্তব্য-তিনি বলছেন, ‘পুলিশ এতটাই দুর্বল, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে না, আগে ফিরে আসলেও এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। তার মানে কি? ১৬ বছরে যেভাবে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, সেই ব্যবস্থার কি পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পেরেছিল, বন্ধুগণ? করতে পারে নাই। যে কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে আমরা লক্ষ্য করছি যে রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।’

রাশেদ খান বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আমি বলছি না যে তারা আসলে আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন, এই সরকারের মাত্র সাত মাস বয়স পড়েছে। ছয় মাস সরকার অতিবাহিত করেছে এবং ছয় মাসে সরকারের যে কার্যক্রম, সেটা জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু এই সরকারের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী করছে, সেটি হলো এই লং মার্চের মাধ্যমে। তারা আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।’

রাশেদ খানের ভাষ্য, ‘এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি ‘লং মার্চ’-এটি কি করা যায়? জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে’। অন্যদিকে সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, সেও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চায়। এই কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরণের সন্দেহ রয়েছে-১৯৯৬ সালে যে কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরণের সন্দেহের জায়গা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে যেমনিভাবে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কি না, এই প্রশ্ন জনগণের মনের মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীকে বলব যে, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে আপনারা লাভবান হতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ চায়, শেখ হাসিনা চায় যে জামায়াত তারা রাজপথে হঠকারিতা করে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিক। অর্থাৎ, রাজপথকে অশান্ত করুক এবং সেই অশান্তির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটবে আওয়ামী লীগ।’

১১ দলীয় জোটের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দলকে বলব যে আপনারা রংপুরে যে লং মার্চ নিয়ে আসছেন, আপনারা যদি প্রকৃতপক্ষে জনবান্ধব হন, তাহলে ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে আসুন।’

চট্টগ্রামের লং মার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই যে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভ করা এবং আমরা দেখেছি যে এনসিপির এক নেতা, তাঁর নামটা আমি বলব না, আজকাল তাঁর নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতার প্রাডো গাড়ি করে তিনি চট্টগ্রামে লং মার্চে গিয়েছেন, কখনো কখনো খিলখিলিয়ে হেসেছেন, উস্কানি দিয়েছেন যে ‘হই হই রই রই, ছাত্রদল যুবদল গেলি কই’।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতকে বলব, ঢাকা থেকে রংপুরে আপনারা যে লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে আসবেন, এরকম কোনো উস্কানি আমরা আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ করুন। সরকারের পক্ষ থেকে, বিএনপির পক্ষ থেকে আপনারা যে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন, কামনা করেছেন, অবশ্যই সেই সহযোগিতা সরকার-প্রশাসন করে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি রংপুর বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে: রাশেদ খান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে আবু সাঈদের মেমোরি স্ট্রিট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, ‘বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম স্টেকহোল্ডার এবং যারা বিরোধী দলে আছে তারাও গণঅভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডার। আমি এর আগেই আমাদের বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রেখেছি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য পাচ্ছি জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই বিরোধী দলীয় জোট তারা লং মার্চের ডাক দিচ্ছে, আর আওয়ামী লীগ এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাশকতা করার উদ্দেশ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান থাকবে, আপনারা এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। শেখ হাসিনা এবং তাঁর তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘আপনারা দেখেন নাই যে ক্যান্টনমেন্ট থানার মতো একটি জায়গায় সেখানে এমন একজন ওসি ছিল, সেই ওসির বক্তব্য-তিনি বলছেন, ‘পুলিশ এতটাই দুর্বল, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে না, আগে ফিরে আসলেও এই পুলিশ কিছু করতে পারবে না। তার মানে কি? ১৬ বছরে যেভাবে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, সেই ব্যবস্থার কি পুরোপুরি অবসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে পেরেছিল, বন্ধুগণ? করতে পারে নাই। যে কারণে বিএনপি সরকারের পক্ষে আমরা লক্ষ্য করছি যে রাতারাতি ওই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নির্মূল করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।’

রাশেদ খান বলেন, ‘এর অন্যতম কারণ হলো জামায়াত। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে এক ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আমি বলছি না যে তারা আসলে আওয়ামী লীগের সেই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখেন, এই সরকারের মাত্র সাত মাস বয়স পড়েছে। ছয় মাস সরকার অতিবাহিত করেছে এবং ছয় মাসে সরকারের যে কার্যক্রম, সেটা জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু এই সরকারের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী করছে, সেটি হলো এই লং মার্চের মাধ্যমে। তারা আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।’

রাশেদ খানের ভাষ্য, ‘এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি ‘লং মার্চ’-এটি কি করা যায়? জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে’। অন্যদিকে সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, সেও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চায়। এই কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরণের সন্দেহ রয়েছে-১৯৯৬ সালে যে কারণে জনগণের মনের মধ্যে এক ধরণের সন্দেহের জায়গা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে যেমনিভাবে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে তারা বুঝে বা না বুঝে আরেকটি পরিকল্পনার ছক তৈরি করছে কি না, এই প্রশ্ন জনগণের মনের মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীকে বলব যে, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে আপনারা লাভবান হতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ চায়, শেখ হাসিনা চায় যে জামায়াত তারা রাজপথে হঠকারিতা করে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি করে দিক। অর্থাৎ, রাজপথকে অশান্ত করুক এবং সেই অশান্তির সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটবে আওয়ামী লীগ।’

১১ দলীয় জোটের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দলকে বলব যে আপনারা রংপুরে যে লং মার্চ নিয়ে আসছেন, আপনারা যদি প্রকৃতপক্ষে জনবান্ধব হন, তাহলে ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে আসুন।’

চট্টগ্রামের লং মার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই যে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভ করা এবং আমরা দেখেছি যে এনসিপির এক নেতা, তাঁর নামটা আমি বলব না, আজকাল তাঁর নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতার প্রাডো গাড়ি করে তিনি চট্টগ্রামে লং মার্চে গিয়েছেন, কখনো কখনো খিলখিলিয়ে হেসেছেন, উস্কানি দিয়েছেন যে ‘হই হই রই রই, ছাত্রদল যুবদল গেলি কই’।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতকে বলব, ঢাকা থেকে রংপুরে আপনারা যে লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ নিয়ে আসবেন, এরকম কোনো উস্কানি আমরা আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ করুন। সরকারের পক্ষ থেকে, বিএনপির পক্ষ থেকে আপনারা যে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন, কামনা করেছেন, অবশ্যই সেই সহযোগিতা সরকার-প্রশাসন করে থাকবে।’


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে