কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। সংসদের ভেতরে-বাইরে আমরা বিতর্ক করব, মতবিনিময় করব; তবে আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্য আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার পরিচালনা করতে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এই দাবি আমি তুলেছিলাম। এটি আমার বক্তব্য ছিল। এখনো অডিও-ভিডিও পাওয়া যাবে। আমি দলের পক্ষ থেকে বলেছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি, আইসিটি এ্যাক্ট-এ আছে। ব্যক্তির যেইভাবে বিচার করা যায়, এই মানবতাবিরোধী এবং গণহত্যার জন্য সংগঠনেরও সেইরকম বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে এই আওয়ামী লীগের কী হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণহত্যার জন্য যে দল দায়ী যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সেই দায় কতটুকু- সেটা তদন্ত হচ্ছে। আইসিটি কোর্টের যে ইনসপেকশনটি তারা তদন্ত করছে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, শেষ পর্যায়ে আছে। ইনশাআল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঝে-মধ্যে দিল্লি থেকে বনে-বাদারে আড়াল থেকে কিছু কিছু আওয়াজ দিয়ে থাকেন, মনে রাখবেন, বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী-গণ মাফিয়া শক্তিকে আর এদেশে রাজনীতি করার অনুমতি দেবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘দুঃস্বপ্ন দেখার কোনো কারণ নেই- আওয়ামী লীগের এত মুরোদ নেই। মাঝে মাঝে আওয়াজ দিতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে এক, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। সংসদের ভেতরে-বাইরে আমরা বিতর্ক করব, মতবিনিময় করব; তবে আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনই একেকটি সংস্কার।’
তিনি বলেন, সরকার সংবিধানে দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন আনতে চায়, যাতে বারবার এ ধরনের জটিলতার সৃষ্টি না হয়। কারণ জুলাই বারবার আসে না।
তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
তবে বিএনপি প্রতিযোগিতা করছে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে। সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে একটা সংস্কার। এইভাবে আমাদের বুঝতে হবে। মাঠের রাজনীতি করতে পারবেন, সংস্কার কমিশন করবেন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ করবেন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ করবেন, দিস ইজ অল ওয়ার্ডিং কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল যেটা আসতে হবে অ্যামেন্ডমেন্ট। সেটা গ্রহণ করতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ৩৬ কি এমনিতেই হয়েছে? জুলাই দীর্ঘদিনের এক এক দিনের বিন্দু বিন্দু জমে আমাদের এই সিন্ধু হয়েছে। এই জুলাই ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদলের-যুবদলের অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীর আত্মত্যাগে। যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেয়া হয় না তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলনের। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।’
জুলাই সনদ কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হবে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের কাছে আমরা মতামত নেব, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে বসব, এডিটরদের সাথে বসব।
আমরা এমন একটা সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই। যে সংশোধনী নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না। বারবার একাত্তর আসে না। বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের যে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা যে প্রত্যাশা এই জাতির সেই প্রত্যাশাকে যদি আমরা পূরণ না করতে পারি, সারাজীবন আমরা দায়ী থাকব।’ বাসস

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। সংসদের ভেতরে-বাইরে আমরা বিতর্ক করব, মতবিনিময় করব; তবে আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্য আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার পরিচালনা করতে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এই দাবি আমি তুলেছিলাম। এটি আমার বক্তব্য ছিল। এখনো অডিও-ভিডিও পাওয়া যাবে। আমি দলের পক্ষ থেকে বলেছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি, আইসিটি এ্যাক্ট-এ আছে। ব্যক্তির যেইভাবে বিচার করা যায়, এই মানবতাবিরোধী এবং গণহত্যার জন্য সংগঠনেরও সেইরকম বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে এই আওয়ামী লীগের কী হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণহত্যার জন্য যে দল দায়ী যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সেই দায় কতটুকু- সেটা তদন্ত হচ্ছে। আইসিটি কোর্টের যে ইনসপেকশনটি তারা তদন্ত করছে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, শেষ পর্যায়ে আছে। ইনশাআল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঝে-মধ্যে দিল্লি থেকে বনে-বাদারে আড়াল থেকে কিছু কিছু আওয়াজ দিয়ে থাকেন, মনে রাখবেন, বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী-গণ মাফিয়া শক্তিকে আর এদেশে রাজনীতি করার অনুমতি দেবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘দুঃস্বপ্ন দেখার কোনো কারণ নেই- আওয়ামী লীগের এত মুরোদ নেই। মাঝে মাঝে আওয়াজ দিতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে এক, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। সংসদের ভেতরে-বাইরে আমরা বিতর্ক করব, মতবিনিময় করব; তবে আওয়ামী লীগ যেন আর ফিরে আসতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনই একেকটি সংস্কার।’
তিনি বলেন, সরকার সংবিধানে দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন আনতে চায়, যাতে বারবার এ ধরনের জটিলতার সৃষ্টি না হয়। কারণ জুলাই বারবার আসে না।
তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
তবে বিএনপি প্রতিযোগিতা করছে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে। সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে একটা সংস্কার। এইভাবে আমাদের বুঝতে হবে। মাঠের রাজনীতি করতে পারবেন, সংস্কার কমিশন করবেন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ করবেন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ করবেন, দিস ইজ অল ওয়ার্ডিং কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল যেটা আসতে হবে অ্যামেন্ডমেন্ট। সেটা গ্রহণ করতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ৩৬ কি এমনিতেই হয়েছে? জুলাই দীর্ঘদিনের এক এক দিনের বিন্দু বিন্দু জমে আমাদের এই সিন্ধু হয়েছে। এই জুলাই ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদলের-যুবদলের অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীর আত্মত্যাগে। যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেয়া হয় না তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলনের। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।’
জুলাই সনদ কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হবে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের কাছে আমরা মতামত নেব, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে বসব, এডিটরদের সাথে বসব।
আমরা এমন একটা সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই। যে সংশোধনী নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না। বারবার একাত্তর আসে না। বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের যে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা যে প্রত্যাশা এই জাতির সেই প্রত্যাশাকে যদি আমরা পূরণ না করতে পারি, সারাজীবন আমরা দায়ী থাকব।’ বাসস

আপনার মতামত লিখুন