চট্টগ্রাম    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

রাজনীতি

সংবিধান সংশোধন কমিটি: কমিটিতে মতামতও দেবে না বিরোধী দল

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সংবিধান সংশোধন কমিটি: কমিটিতে মতামতও দেবে না বিরোধী দল
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশ না নিতে অনড় বিরোধী দল কোনো মতামতও দেবে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের জোট বলেছে, বিশেষ কমিটির কোনো আহ্বানেই তারা সাড়া দেবে না।

বিশেষ কমিটির গত মঙ্গলবারের প্রথম বৈঠককে ‘প্রহসন’ অভিহিত করে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি তাঁরা রাজপথেই ফয়সালা করতে চান।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার গায়ের জোরে সবই একতরফাভাবে করছে। জুলাই সনদ, গণভোট ও সংস্কারকে তারা মুছে ফেলার জন্যই সংশোধন প্রক্রিয়ায় গেছে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় তো এটা টিকবে না। এটা হলো ভুল পথ। এটার মাধ্যমে সংস্কারও হবে না, সুশাসনও কায়েম হবে না। জুলাই বিপ্লব যে লক্ষ্যে হয়েছিল, সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আগের মতোই আরেকটি নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দেবে এই সংশোধনী।’

জাতীয় সংসদ গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে। তবে কমিটিতে পাঁচজনের নাম দিতে সরকারি দল অনুরোধ জানালেও কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। কমিটি গঠনের দিন তা প্রত্যাখ্যান করে ওয়াকআউট করেছিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।

এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে মঙ্গলবার। জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করতে চান তাঁরা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়নবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টাকে এনসিপি একটা প্রহসন হিসেবে দেখছে। কারণ, পুরো গণভোট এবং জনগণের গণরায়কে অগ্রাহ্য করে যেভাবে নতুন করে একেবারে শূন্য থেকে একটি সংবিধান সংশোধনী কমিটি করা হয়েছে, এটা জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে কাজ করা।’ তিনি বলেন, ‘এই সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দল যায়নি এবং যাবেও না। কমিটিতে কোনো মতামতও দেবে না। এটা বিএনপির সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা এখন সংসদীয় স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। এর অংশ বিরোধী দল হবে না। এটার ফয়সালা রাজপথেই হবে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এর আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রাখা হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার কথা ছিল। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির জোটের সংসদ সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবে শপথ নেন। এ কারণে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি। এই পরিষদ গঠনের দাবি সংসদে জানানোর পাশাপাশি একই দাবিতে রাজপথেও নেমেছে বিরোধী দল।

এনসিপির মতে, গণভোট এবং জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান উদ্যোগ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোনো আন্তরিক উদ্যোগও নেয়নি। ফলে এই কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মানে পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া, যা তারা করবে না।

জামায়াতও বলছে, বর্তমান প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ঐকমত্যের পরিবর্তে একতরফা সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করছে। প্রকৃত সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের যে দাবি গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠেছিল, সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগ সেই দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াতসহ দলটির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যের দলগুলো এই দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচির পক্ষে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব। সংশোধন, সংশোধনী—কিছুই হবে না। সংস্কারই একমাত্র পথ। সংস্কার না করলে রাজপথই একমাত্র সমাধান।’

জাতীয় সংসদ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ছাপা সংস্করণ সংবিধান

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


সংবিধান সংশোধন কমিটি: কমিটিতে মতামতও দেবে না বিরোধী দল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশ না নিতে অনড় বিরোধী দল কোনো মতামতও দেবে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের জোট বলেছে, বিশেষ কমিটির কোনো আহ্বানেই তারা সাড়া দেবে না।

বিশেষ কমিটির গত মঙ্গলবারের প্রথম বৈঠককে ‘প্রহসন’ অভিহিত করে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি তাঁরা রাজপথেই ফয়সালা করতে চান।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার গায়ের জোরে সবই একতরফাভাবে করছে। জুলাই সনদ, গণভোট ও সংস্কারকে তারা মুছে ফেলার জন্যই সংশোধন প্রক্রিয়ায় গেছে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় তো এটা টিকবে না। এটা হলো ভুল পথ। এটার মাধ্যমে সংস্কারও হবে না, সুশাসনও কায়েম হবে না। জুলাই বিপ্লব যে লক্ষ্যে হয়েছিল, সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আগের মতোই আরেকটি নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দেবে এই সংশোধনী।’

জাতীয় সংসদ গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে। তবে কমিটিতে পাঁচজনের নাম দিতে সরকারি দল অনুরোধ জানালেও কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। কমিটি গঠনের দিন তা প্রত্যাখ্যান করে ওয়াকআউট করেছিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।

এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে মঙ্গলবার। জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করতে চান তাঁরা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়নবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টাকে এনসিপি একটা প্রহসন হিসেবে দেখছে। কারণ, পুরো গণভোট এবং জনগণের গণরায়কে অগ্রাহ্য করে যেভাবে নতুন করে একেবারে শূন্য থেকে একটি সংবিধান সংশোধনী কমিটি করা হয়েছে, এটা জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে কাজ করা।’ তিনি বলেন, ‘এই সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দল যায়নি এবং যাবেও না। কমিটিতে কোনো মতামতও দেবে না। এটা বিএনপির সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা এখন সংসদীয় স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। এর অংশ বিরোধী দল হবে না। এটার ফয়সালা রাজপথেই হবে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এর আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রাখা হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার কথা ছিল। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির জোটের সংসদ সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবে শপথ নেন। এ কারণে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি। এই পরিষদ গঠনের দাবি সংসদে জানানোর পাশাপাশি একই দাবিতে রাজপথেও নেমেছে বিরোধী দল।

এনসিপির মতে, গণভোট এবং জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান উদ্যোগ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোনো আন্তরিক উদ্যোগও নেয়নি। ফলে এই কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মানে পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া, যা তারা করবে না।

জামায়াতও বলছে, বর্তমান প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ঐকমত্যের পরিবর্তে একতরফা সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করছে। প্রকৃত সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের যে দাবি গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠেছিল, সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগ সেই দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াতসহ দলটির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যের দলগুলো এই দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচির পক্ষে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব। সংশোধন, সংশোধনী—কিছুই হবে না। সংস্কারই একমাত্র পথ। সংস্কার না করলে রাজপথই একমাত্র সমাধান।’


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে