চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

খেলা

হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি দল তাদের রক্ষণভাগ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪টি ম্যাচ খেললেও তাদের জালে কেউ বল জড়াতে পারেনি। শেষ ষোলোর মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘এল ট্রি’দের এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আর মেক্সিকোর এই অপরাজেয় ডিফেন্সের একদম কেন্দ্রে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই সেন্ট্রাল ব্যাক সেসার মন্তেস ও জোহান ভাসকেজ। মাঠে তাদের অসাধারণ বোঝাপড়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের গল্প।

মন্তেস ও ভাসকেজের পথচলা যেন একই সুতোয় গাঁথা। শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ একসাথেই এসেছেন তারা। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে ভাসকেজ বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বা ১১ বছর, তখন প্রথম ওকে দেখি। মেক্সিকোর ক্লাব ‘পাচুকা’র হয়ে খেলার সময় আমাদের পরিচয়। সেখানেই আমরা জানতে পারি যে আমরা একই রাজ্যের, একই অঞ্চলের ছেলে। কঠিন সময়ে নিজের এলাকার কাউকে পাশে পাওয়াটা অন্যরকম এক মানসিক শক্তি দেয়।’

পাচুকার পর সি মারোনেস দে সোনোরা, মন্টেরেই ক্লাব হয়ে আজ মেক্সিকো জাতীয় দল প্রতিটি ধাপেই এই দুই বন্ধু একসাথে বড় হয়েছেন। ভাসকেজ বলেন, ‘একই এলাকার হওয়ায় আমরা সব সময় একে অপরের খেয়াল রাখতাম। আমি যখন নতুন কোনো ক্লাবে যেতাম, কাউকে চিনতাম না, তখন মন্তেসই আমাকে স্বাগত জানাত, নানা বিষয়ে সাহায্য করত। আমরা বহু বছর ধরে একে অপরকে খুব ভালো করে চিনি।’

এই দুই বন্ধুর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য ছিল টোকিও অলিম্পিকে মেক্সিকোর হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়। সেই দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন। ভাসকেজের বিশ্বাস, দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান মেক্সিকো দলকে একটি পরিবারের মতো করে তুলেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড নিয়ে ভাসকেজ অবশ্য কৃতিত্ব দিতে চান পুরো দলকে, ‘দলকে গোল হজম না করার নিরাপত্তা দিতে পারাটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতির। তবে গোল খাইনি বলেই যে রক্ষণভাগ নিখুঁত, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় গোলরক্ষক বা অন্য সতীর্থরা আমাদের নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, অথচ সব কৃতিত্ব দেওয়া হয় ডিফেন্সকে। আসলে এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’

মাঠে মন্তেস ও ভাসকেজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, দুজনের বোঝাপড়াটা কতটা সহজাত। একজন এগিয়ে গেলে অন্যজন জায়গা সামলে নেন, একজনের ভুল অন্যজন ঢেকে দেন। একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় তারা মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুর্গে পরিণত করেছেন।

আগামীকাল আজতেকা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইনদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিতে মেক্সিকোর মূল ভরসা তাই এই দুই বাল্যবন্ধুর ‘ডিফেন্সিভ পার্টনারশিপ’।

বিশ্বকাপ ফুটবল ফিফা মেক্সিকো ইংল্যান্ড

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


হ্যারি কেইনদের সামনে মেক্সিকোর ‘বন্ধুত্বের দেয়াল’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি দল তাদের রক্ষণভাগ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪টি ম্যাচ খেললেও তাদের জালে কেউ বল জড়াতে পারেনি। শেষ ষোলোর মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ‘এল ট্রি’দের এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আর মেক্সিকোর এই অপরাজেয় ডিফেন্সের একদম কেন্দ্রে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুই সেন্ট্রাল ব্যাক সেসার মন্তেস ও জোহান ভাসকেজ। মাঠে তাদের অসাধারণ বোঝাপড়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের গল্প।

মন্তেস ও ভাসকেজের পথচলা যেন একই সুতোয় গাঁথা। শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চ একসাথেই এসেছেন তারা। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে ভাসকেজ বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বা ১১ বছর, তখন প্রথম ওকে দেখি। মেক্সিকোর ক্লাব ‘পাচুকা’র হয়ে খেলার সময় আমাদের পরিচয়। সেখানেই আমরা জানতে পারি যে আমরা একই রাজ্যের, একই অঞ্চলের ছেলে। কঠিন সময়ে নিজের এলাকার কাউকে পাশে পাওয়াটা অন্যরকম এক মানসিক শক্তি দেয়।’

পাচুকার পর সি মারোনেস দে সোনোরা, মন্টেরেই ক্লাব হয়ে আজ মেক্সিকো জাতীয় দল প্রতিটি ধাপেই এই দুই বন্ধু একসাথে বড় হয়েছেন। ভাসকেজ বলেন, ‘একই এলাকার হওয়ায় আমরা সব সময় একে অপরের খেয়াল রাখতাম। আমি যখন নতুন কোনো ক্লাবে যেতাম, কাউকে চিনতাম না, তখন মন্তেসই আমাকে স্বাগত জানাত, নানা বিষয়ে সাহায্য করত। আমরা বহু বছর ধরে একে অপরকে খুব ভালো করে চিনি।’

এই দুই বন্ধুর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য ছিল টোকিও অলিম্পিকে মেক্সিকোর হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়। সেই দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন। ভাসকেজের বিশ্বাস, দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান মেক্সিকো দলকে একটি পরিবারের মতো করে তুলেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড নিয়ে ভাসকেজ অবশ্য কৃতিত্ব দিতে চান পুরো দলকে, ‘দলকে গোল হজম না করার নিরাপত্তা দিতে পারাটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতির। তবে গোল খাইনি বলেই যে রক্ষণভাগ নিখুঁত, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় গোলরক্ষক বা অন্য সতীর্থরা আমাদের নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, অথচ সব কৃতিত্ব দেওয়া হয় ডিফেন্সকে। আসলে এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’

মাঠে মন্তেস ও ভাসকেজের দিকে তাকালে বোঝা যায়, দুজনের বোঝাপড়াটা কতটা সহজাত। একজন এগিয়ে গেলে অন্যজন জায়গা সামলে নেন, একজনের ভুল অন্যজন ঢেকে দেন। একে অপরের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় তারা মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুর্গে পরিণত করেছেন।

আগামীকাল আজতেকা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইনদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিতে মেক্সিকোর মূল ভরসা তাই এই দুই বাল্যবন্ধুর ‘ডিফেন্সিভ পার্টনারশিপ’।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে