লিওনেল মেসির ইতিহাস
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রায় সব রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা, সবচেয়ে বেশি গোল আর অ্যাসিস্টের রেকর্ডও তার। সেই সাথে বেশিবার ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি
বিশ্বকাপে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার তালিকায় লিওনেল মেসির ধারেকাছেও নেই কেউ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে সেই ব্যবধান আরো বাড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১৪তম বার এই পুরস্কার জিতলেন মেসি।
এই রেকর্ডের মাহাত্ম্য আরো স্পষ্ট হয় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফুটবলারের নাম দেখলেই। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন মেসির পরেই। তিনি ম্যাচসেরা পুরস্কার জিতেছেন সাতবার। অর্থাৎ, তার চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যাক ম্যাচসেরা হয়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এমন একক আধিপত্য আর কোনো ফুটবলারের নেই। মেসির বিশ্বকাপযাত্রাও যেন এই রেকর্ডের মতোই ধাপে ধাপে পূর্ণতা পেয়েছে। শেষ ১১ ম্যাচেই মেসি এই পুরস্কার জিতলেন সাতবার।
২০০৬ সালে কিশোর প্রতিভা হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক। তবে তেমন কিছুই করা হয়নি। ২০১০ সালে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। যদিও সেবার মাত্র একটি ম্যাচে (গ্রিসের বিপক্ষে) সেরা হন মেসি। তবে এরপর শুরু হয় তার রাজত্ব।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ম্যাচসেরা হন তিনি। এরপর শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে মোট চারবার এই স্বীকৃতি পান। এমনকি সেবার টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছিলেন মেসি।
তবে ২০১৮ বিশ্বকাপ খুব একটা ভালো যায়নি। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়ার আগে মাত্র একটা ম্যাচে জ্বলে উঠেন মেসি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের একমাত্র গোলটি করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন।
তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ আগের সব সাফল্য পিছনে ঠেলে দেয়। সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মেসি। মেক্সিকো, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে- দলকে নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে। সেই সাথে জিতেন বিশ্বকাপ ট্রফিও।
২০২৬ বিশ্বকাপেও সময় যেন তাকে থামাতে পারেনি। প্রায় ৪০ বছর বয়সেও মাঠের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারদের একজন তিনি। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হন তিনি।
আর আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে নিজের রেকর্ড নিয়ে গেছেন ১৪-তে। এই সংখ্যাটা আরো বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ আছে মেসির সামনে। তার দল উঠে গেছে শেষ ষোলোতে।