রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় ঢাবির ৯২ শিক্ষক, শনাক্ত ৫৮
রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৯২ শিক্ষকের মধ্যে ৫৮ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন অনুষদের ডিন। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। বাকি শিক্ষকদের নাম শনাক্ত করা গেলে তাদের বিষয়ও একই প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপন তৎপরতায় যুক্ত রয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ শিক্ষকের নাম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে তালিকায় থাকা ৫৮ শিক্ষকের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কারও নাম শনাক্ত হলে কমিটি তাদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করবে।
এর আগে একটি অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরি এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালাতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি টেলিগ্রামভিত্তিক গোপন গ্রুপে যুক্ত রয়েছেন। ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে ওই গ্রুপের মাধ্যমে কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রুপটির সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের নাম রয়েছে।
তবে তালিকায় থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা বা তাদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, কমিটির তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।