ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যয় জামায়াতের, কোনো খরচ করেনি ২৮ দল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, দলীয় কোনো খরচ না করেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পার করেছে ২৮টি দল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ব্যয় দেখিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আর এই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি খরচ দেখিয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নেয়। ইসি ২৬ জুলাই ৪৯টি দলের নির্বাচনি ব্যয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। তবে দলগুলো কোন খাতে কত টাকা খরচ করেছে, তা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। শুধু দলভিত্তিক মোট ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন দলের কত ব্যয়
গত সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৮৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটি যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, তারা খরচ করেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে ঘুরেফিরে তিন শর্ত, কেমন প্রার্থী খুঁজছে বিএনপি?
২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তারা দলীয় ব্যয় দেখিয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা।
এনসিপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। তারা দলীয় খরচ দেখিয়েছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়ে খরচ দেখিয়েছে ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭১ টাকা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলীয়ভাবে তারা খরচ করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা।
জাতীয় পার্টি (জেপি) ১০ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা। গণতন্ত্রী পার্টি একজন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ টাকা। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ২৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ টাকা। খেলাফত মজলিসের একটি অংশ ৩৪ জন এবং আরেক অংশ ২১ জন প্রার্থী দিয়েছিল। ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ১৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) ১১ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ টাকা। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭১০ টাকা। গণঅধিকার পরিষদ ৯০ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ২৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। আমজনতার দল ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৪২ হাজার ৫২০ টাকা। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৮ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসরকারি চাকরিজীবীদের কবে কত বেতন বেড়েছিল, নবম পে স্কেলের কাজ কতদূর?
এদিকে, শূন্য ব্যয় দেখানো ২৮টি দল হলো, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থী দিয়েছিল ১২ জন, জাকের পার্টি ৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১২ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ২৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪ জন, গণফোরাম ১৯ জন, গণফ্রন্ট ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) একজন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৫ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১২ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ১২ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৭ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ৮ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ৮ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮ জন প্রার্থী দিয়েছিল। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ১৯ জন, নাগরিক ঐক্য ১১ জন, গণসংহতি আন্দোলন ১৭ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ৮ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৫ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ১২ জন, জনতার দল ১৯ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) একজন প্রার্থী দিয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও (বিজেপি) শূন্য হিসাব দিয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের পর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব দল নির্বাচন কমিশনে দেয়া জমা হিসাবে দলীয় নির্বাচনি ব্যয় ‘শূন্য’ দেখিয়েছে।