জুলাই না হলে কেউ কিছু হতে পারত না: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থান রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে জুলাই না কেউ কিছু হতে পারত না। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চব্বিশের জুলাইকে হারিয়ে যেতে দেবো না। চব্বিশ না হলে, বিরোধী দলের নেতা হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারত না।’
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউশনে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোতে পুনরুত্থান ঘটলেও, সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে জাতি আশাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, যারা দেশ পরিচালনা করবে তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকতে হবে। যখন সরকারের এক মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলে, 'সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ বলেছি যদি নির্বাচন হতে দেওয়া না হয়!' আরেক মন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে টোল মওকুফের কথা বলেছেন কিন্তু টোল মওকুফ করা হবে না।' মন্ত্রীদের দ্বিচারিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা রাজনীতির জন্য শুভকর নয়।
শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ যাতে আর না ফেরে। ফ্যাসিবাদের ফেরার পথ বন্ধে অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করলে রাষ্ট্র হবে অকৃতজ্ঞ।
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। সংবিধান সংস্কারের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০শতাংশ জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সংবিধান সংষ্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে। এটা হচ্ছে জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়া, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়া।
বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটের চার প্রশ্ন জাতি যদি না বোঝে, তাহলে ৩১ দফা বোঝে কীভাবে? এগুলো সব গোঁজামিল, ভাঁওতাবাজি। নির্বাচনে আগে বিএনপিও হ্যাঁ ভোট চেয়েছিল। ৭০ ভাগের মতো জনগণ গণভোটে “হ্যাঁ” বলল। এখন তাঁরা বলেন, “৫১ শতাংশ মানুষ আমাদের রায় দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমরা এটা মানব না। কারণ, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।” ৫১ বড়, না ৭০ বড়?
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জামায়াতই একমাত্র যাদেরকে ভারত পছন্দ করে না। জামায়াত ভারতের লাল কার্ড পরোয়া করে না। ভারতের বুকে আশ্রয় নেওয়ার কথা জামায়াত কোনো দিন চিন্তাও করে না।
শেখ হাসিনার আমলে গুমের শিকার সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, যাদের রক্তে ক্ষমতা বসেছে তাদের সম্মান করতে পারেনি সরকার। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী শিলং থেকে একজন দেশে এসে দাবি করছেন তিনি না কি জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জুলাই শহীদ মোবারক হোসেনের বাবা রমজান আলী বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন সরকার গণহত্যার বিচার করবে কি-না। কারণ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য সন্দেহজনক। বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এবার শহীদ পরিবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
শহীদ মেহেদী হাসানের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, সরকারের কার্যক্রমে মনে হয়, তারা জুলাই চেতনা বিশ্বাস করে না।
আহত জুলাইযোদ্ধা সালমান হোসেন বলেন, আবু সাঈদকে গুলি করে শহীদ করায় ছাত্র সমাজ ফুঁসে ওঠে সরকার পতনের আন্দোলনের শপথ করে। ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে দলমত নির্বিশেষে অভিভাবক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ জুলাই অভ্যুত্থান করেছে।
অভ্যুত্থানের সময়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মঞ্জরুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করা ছিল চূড়ান্ত মুহুর্ত। এখান থেকেই ছাত্র সমাজ শপথ করে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই হবে।
মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালায় সভায় বক্তৃতা করেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, রাশেদুল ইসলাম এমপি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।