গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই আন্দোলন: দিপু
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেছেন, তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড হয়। এবারও সময়মতো মজুরি বোর্ড হয়েছে। মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেয় আমাদের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সেটা মেনে নেয়। তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা না। আসলে এটা গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এদিন নারায়ণগঞ্জ জেলার চলমান শ্রমিক অসন্তোষ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সকল ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, এটা কোনো শ্রমিকের আন্দোলন না। ৩০ হাজার টাকা বেতন কোনো দাবী না। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সকলে মিলে চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার; জনগণের ভোটের সরকার। গত ১৭ বছর অনেকেই চেষ্টা করেছেন দেশের গণতন্ত্র গার্মেন্টস শিল্প খাতকে ধ্বংস করার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ সচেতন হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। ব্যবসায়ীরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক গার্মেন্টস চলমান আছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ গার্মেন্টসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারপরও আন্দোলনে যারা আসছে তাদের প্রায় ৯০ পার্সেন্ট লোক কোনো গার্মেন্টসের শ্রমিক না। তারা বিভিন্নভাবে এসে চেষ্টা করেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টসে সমস্যা করার জন্য। নারায়ণগঞ্জে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি; শুধুমাত্র একটি জায়গায় তারা আগে থেকেই প্লান করে সড়ক অবরোধের জন্য এই অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী সকলে একত্রে থাকার কারণে কোনো সমস্যা করতে পারেনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্য করে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, বিরোধী দলে যারা আছেন তাদের বলবো; আমরা যেন সকলে মিলে একসাথে বাংলাদেশ আমাদের। বাংলাদেশের ক্ষতি করা যাবে না। দেশকে আর অন্ধকারে নিয়ে যাইয়েন না। আমাদেরকে সময় দেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলেন। আপনাদের টাকা না দিলে শ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার নয় শুধু ৪০ হাজার টাকা দিতে পারবো। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন; শ্রমিকের কত টাকা বেতন দিতে হয় আমরা দিবো। আমরা অমুকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী; অমুকের জন্মদিন; কাস্টমের অমুক টাকা; এমবিএআরের অমুক টাকা; যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে কারণে আমরা দিতে পারি না। আমাদের কোথায় টাকা দিতে না হয়। বছরে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।
তিনি বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’ কে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ শত শত কোটি টাকা এফডিআর করে রাখবে; আর ক্রাইসিসে ভূমিকা রাখতে পারবে না। এটা হতে পারে না; শ্রমিক মালিকদের সহযোগিতা করেন। আপনারা কেন শ্রমিকদের জন্য কাজ করতে পারেন না?
বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে মাসুদুজ্জামান বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য; বিরোধীদলে যে ভূমিকা এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ রহস্যজনক এবং হতাশাজনক মনে হলো। এই দেশ আমাদের; আমাদেরই সমস্যা সমাধান করতে হবে। আপনারা আমরা সবাই মিলে সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ও বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহলে, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি আবু জাফর, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধূরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান তনু ও মজিবুর রহমান সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।