আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিয়াদ, ১৫ জুলাই, ২০২৬
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি আন্দোলন। সোমবার (১৩ জুলাই) চালানো এই হামলার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে গত চার বছর ধরে চলে আসা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হামলার কারণ ও প্রেক্ষাপট
কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে এক বিমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া একটি হুতি প্রতিনিধি দলকে ফিরিয়ে আনতে তেহরান থেকে একটি ইরানি বিমান সানায় অবতরণের চেষ্টা করে।
কিন্তু সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার বিমানটিকে অবতরণ করতে বাধা দিতে রানওয়েতে হামলা চালায়। হুতিরা এই হামলার জন্য সরাসরি রিয়াদকে দায়ী করে এবং এর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
হুতিদের দাবি ও সৌদি প্রতিরক্ষার জবাব
হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে, এতদিনের সমঝোতার পর্ব এখানেই শেষ। এরপরই হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ি শহর আভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ এয়ার বেস এবং প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন যে:
"সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দক্ষিণাঞ্চল অভিমুখে ধেয়ে আসা হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।"
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিমান সংস্থাগুলোকে হুতিদের হুঁশিয়ারি
হামলা চালানোর পরপরই হুতিদের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সানার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত বিমান সংস্থাকে সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তে বড় ধরনের কোনো সংঘাত হয়নি। তবে সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং এখন সরাসরি সৌদি আরবে এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি জোটও সতর্ক করে বলেছে, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামো ও নাগরিকদের সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিয়াদ, ১৫ জুলাই, ২০২৬
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি আন্দোলন। সোমবার (১৩ জুলাই) চালানো এই হামলার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে গত চার বছর ধরে চলে আসা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হামলার কারণ ও প্রেক্ষাপট
কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে এক বিমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া একটি হুতি প্রতিনিধি দলকে ফিরিয়ে আনতে তেহরান থেকে একটি ইরানি বিমান সানায় অবতরণের চেষ্টা করে।
কিন্তু সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার বিমানটিকে অবতরণ করতে বাধা দিতে রানওয়েতে হামলা চালায়। হুতিরা এই হামলার জন্য সরাসরি রিয়াদকে দায়ী করে এবং এর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
হুতিদের দাবি ও সৌদি প্রতিরক্ষার জবাব
হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে, এতদিনের সমঝোতার পর্ব এখানেই শেষ। এরপরই হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ি শহর আভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ এয়ার বেস এবং প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন যে:
"সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দক্ষিণাঞ্চল অভিমুখে ধেয়ে আসা হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।"
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিমান সংস্থাগুলোকে হুতিদের হুঁশিয়ারি
হামলা চালানোর পরপরই হুতিদের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সানার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত বিমান সংস্থাকে সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তে বড় ধরনের কোনো সংঘাত হয়নি। তবে সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং এখন সরাসরি সৌদি আরবে এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি জোটও সতর্ক করে বলেছে, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামো ও নাগরিকদের সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।

আপনার মতামত লিখুন