নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'তোহফা - for Mankind'। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আজ বাঁশখালীর বিভিন্ন দুর্গম ও বন্যা-কবলিত এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
উপজেলার ৫টি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এলাকাগুলো হলো:
পূর্ব পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট উপায়ে ত্রাণ বণ্টন
ত্রাণ বিতরণে সাধারণত যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, তা এড়াতে এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল ‘তোহফা - for Mankind’। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দল আগেই বন্যাপীড়িত এই এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রকৃত অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করেন।
আজ সেই পূর্ব-পরিকল্পিত তালিকা অনুযায়ী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সরাসরি বন্যার্তদের হাতে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো রকম লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের চরম বিপদের দিনে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
"আমরা এটাকে 'ত্রাণ' নয়, বরং আমাদের ভাই-বোনদের জন্য 'ভালোবাসার উপহার' হিসেবে দেখছি। বন্যায় যারা সবকিছু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন, তাদের এই কঠিন সময়ে সামান্যতম স্বস্তি দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।" — সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি
উপহার সামগ্রীতে যা ছিল
বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যে তীব্র খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দেয়, তা বিবেচনায় রেখে উপহারের প্যাকেটগুলো সাজানো হয়েছিল। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল:
স্থানীয়দের কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা
উপহার সামগ্রী পেয়ে খানখানাবাদ ও সরল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কদম রাসুল এলাকার এক বয়োবৃদ্ধ উপকারভোগী জানান, "বন্যার পর অনেকেই এসে ছবি তুলে চলে যায়, কিন্তু তোহফা-র ছেলেরা আগে এসে আমাদেরখোঁজখবর নিয়েছে এবং আজ ঘরে এসে দরকারি জিনিসগুলো দিয়ে গেল। এই উপহার আমাদের খুব উপকারে আসবে।"
কাথারিয়া ও ডুমুরিয়া এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ‘তোহফা - for Mankind’-এর এই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও এভাবেই সমন্বিত উপায়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
‘তোহফা - for Mankind’ জানায়, বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই সামনের দিনগুলোতেও তাদের এই মানবিক ও পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'তোহফা - for Mankind'। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আজ বাঁশখালীর বিভিন্ন দুর্গম ও বন্যা-কবলিত এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
উপজেলার ৫টি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এলাকাগুলো হলো:
পূর্ব পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট উপায়ে ত্রাণ বণ্টন
ত্রাণ বিতরণে সাধারণত যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, তা এড়াতে এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল ‘তোহফা - for Mankind’। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দল আগেই বন্যাপীড়িত এই এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রকৃত অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করেন।
আজ সেই পূর্ব-পরিকল্পিত তালিকা অনুযায়ী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে সরাসরি বন্যার্তদের হাতে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো রকম লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের চরম বিপদের দিনে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
"আমরা এটাকে 'ত্রাণ' নয়, বরং আমাদের ভাই-বোনদের জন্য 'ভালোবাসার উপহার' হিসেবে দেখছি। বন্যায় যারা সবকিছু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন, তাদের এই কঠিন সময়ে সামান্যতম স্বস্তি দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।" — সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি
উপহার সামগ্রীতে যা ছিল
বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যে তীব্র খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দেয়, তা বিবেচনায় রেখে উপহারের প্যাকেটগুলো সাজানো হয়েছিল। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল:
স্থানীয়দের কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা
উপহার সামগ্রী পেয়ে খানখানাবাদ ও সরল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কদম রাসুল এলাকার এক বয়োবৃদ্ধ উপকারভোগী জানান, "বন্যার পর অনেকেই এসে ছবি তুলে চলে যায়, কিন্তু তোহফা-র ছেলেরা আগে এসে আমাদেরখোঁজখবর নিয়েছে এবং আজ ঘরে এসে দরকারি জিনিসগুলো দিয়ে গেল। এই উপহার আমাদের খুব উপকারে আসবে।"
কাথারিয়া ও ডুমুরিয়া এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ‘তোহফা - for Mankind’-এর এই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও এভাবেই সমন্বিত উপায়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
‘তোহফা - for Mankind’ জানায়, বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই সামনের দিনগুলোতেও তাদের এই মানবিক ও পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন