চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

জাতীয়

আজ ৩০ জুলাই, আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস, ডিজিটাল যুগে প্রয়োজন প্রকৃত বন্ধু

আজ ৩০ জুলাই, আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস, ডিজিটাল যুগে প্রয়োজন প্রকৃত বন্ধু

আজ ৩০ জুলাই, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস। বন্ধুদের ট্যাগ করে আবেগঘন বার্তা, স্মৃতিমাখা ছবি, নস্টালজিক ক্যাপশন-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেনো আবেগের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে। ২০১১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের স্বীকৃতি পাওয়া এই দিনটির শিকড় আরও গভীরে। ১৯৫৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’-এর একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সূচনা হয়েছিল বন্ধুত্ব উদযাপনের এই ভাবনাটি।

বন্ধুত্বের মূল্যকে স্বীকৃতি দেয়ার এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বন্ধু মানেই নিছক কোনো ভার্চুয়াল কনট্যাক্ট নয়, বরং একটা জীবন্ত অনুভব, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নামই বন্ধুত্ব। কিন্তু, প্রশ্নটা ঠিক এখানেই, আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে, আমরা কি সত্যিই একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছি, নাকি আরও বেশি একা হয়ে পড়েছি?

ভার্চুয়াল সম্পর্ক বনাম বাস্তব সংযোগ

দৃশ্যত, আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ‘কানেক্টেড’। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ভিডিও কল, টেক্সট, মানুষ যেন এখন সারা দুনিয়ার সাথে সার্বক্ষণিক যুক্ত। কিন্তু এই সংযুক্তির মধ্যে কি আমরা ‘সম্পর্ক’ হারিয়ে ফেলেছি?

টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের খ্যাতিমান ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ফাজিলেত সেয়িতওগলু বলেন, “মানুষ সামাজিক প্রাণী। তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায়, একে অপরকে স্পর্শ করতে চায়, পাশে বসে নিঃশব্দে থেকেও বন্ধুত্ব অনুভব করতে চায়। এই জৈবিক ও মানসিক চাহিদা কোনো অ্যাপ বা অনলাইন চ্যাট পূরণ করতে পারে না।”

তার মতে, বর্তমান প্রজন্মে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয়, তবে এই সম্পর্কগুলো ‘আত্মিক’ নয়। তিনি বলেন, “ফেসবুকে প্রতিদিন কথা হচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে রিলস শেয়ার হচ্ছে, কিন্তু যখন মন খারাপ হয় বা কাঁদতে হয়, তখন তো স্ক্রিনের বন্ধুরা পাশে বসে না। তখন দরকার সেই একজন, যে হাত ধরে, পাশে বসে, মৌন থেকেও সান্ত্বনা দিতে পারে।”

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই বিলিয়ন। তথাকথিত এই ‘ডিজিটাল কানেকশন’-এর যুগেই ভয়াবহ রকমের একাকিত্ব, বিষণ্ণতা ও আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছেন বহু মানুষ।

২০২২ সালে মনোবিজ্ঞানী এরিক জে. মুডির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক একাকিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে, যারা অধিকাংশ সময় অনলাইনে থাকেন, তারা অনেক সময় ‘সামাজিকভাবে’ যুক্ত থাকলেও, ‘আত্মিকভাবে’ শূন্যতা অনুভব করেন।

সেয়িতওগলু বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুতগামী। এখানে মানুষ স্বস্তি, স্বীকৃতি ও তাৎক্ষণিক আনন্দ খোঁজে। কিন্তু এগুলোতে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় না। এই দুনিয়া ‘ইগো’ দিয়ে চলে, ‘ইম্প্যাথি’ দিয়ে নয়। ফলে বাস্তব, পারস্পরিক, আত্মিক বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আমাদের পূর্বের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছি, যেখানে পরিবার, সম্প্রদায় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ছিল জীবনের মূল ভিত্তি। এখন সবাই নিজের মধ্যে বন্দি স্বার্থপর, একাকী, ক্ষণস্থায়ী আনন্দে বিভোর। আর মানব আত্মা আস্তে আস্তে অনাহারে ভুগছে।”

সেয়িতওগলু বাস্তব আর ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের তফাৎ তুলে ধরেন দুটি পরিস্থিতির মাধ্যমে। তার কথায়, “আপনার জীবনে কোনো বড় বিপদ এলে, আপনার ফেসবুক বন্ধু কি বাসায় ছুটে আসবে? সে তো অন্য দেশের, অন্য মহাদেশের মানুষ। যতই ইনবক্সে সান্ত্বনা দিক, বাস্তব জগতে তার উপস্থিতি শূন্য। ভালোবাসা মানে তো হাত ধরা, পাশে বসা, কান্নার সময় গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়া।”

এই বক্তব্য নিছক আবেগনির্ভর নয়। গবেষণায়ও এমনটাই উঠে এসেছে। ২০০৪ সালে এনগেলবার্গ ও স্যোজবার্গ-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার ইন্টারনেট ব্যবহার সামাজিক খাপ খাওয়ানো ও আবেগীয় বোধশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে, ২০১৪ সালের ইয়াও এবং ঝং-এর গবেষণায় প্রমাণিত হয়, ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ‘একাকিত্ব’ সৃষ্টি করে, তা দূর করে না।

পরস্পরের কাছে ফিরে যাওয়া সময় এসেছে

তাহলে প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবো? সেয়িতওগলু বলেন, “সত্যিকারের বন্ধুত্ব অনলাইন থেকেই শুরু হতে পারে, কিন্তু তা টিকে থাকে বাস্তব দুনিয়ায়। বাস্তব বন্ধুতা মানে সময় দেয়া, ত্যাগ স্বীকার করা, শারীরিক উপস্থিতি রাখা। তা না হলে আমরা একসময় নিজেদের কাছ থেকেও অপরিচিত হয়ে যাব।”

তার মতে, আমাদের সমাজে এখন এমনকি বৃদ্ধরাও সঙ্গ পাওয়ার জন্য স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে, মানুষ-মানুষে যে সম্পর্কের উষ্ণতা ছিল, তা ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “একসাথে খাওয়া, চা খেতে খেতে গল্প, হঠাৎ করে কাউকে দেখতে যাওয়া, এই অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনের সৌন্দর্য ছিল। এখন এগুলো বিলুপ্তপ্রায়। ফলে মানসিকভাবে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছি।”

আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে, যখন আপনি ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে শুভেচ্ছা বার্তা স্ক্রল করছেন, তখন হয়তো একটু ভেবে দেখার সময় এসেছে, এই ‘ভার্চুয়াল শুভেচ্ছার চেয়ে কি একটা ফোনকল বা চায়ের দাওয়াত বেশি অর্থবহ নয়?

সেয়িতওগলু বলেন, “প্রতিটি সেকেন্ড, আমরা যত বেশি ডিজিটাল জীবনে বিনিয়োগ করছি, ততটাই সামাজিক জীবনের পুঁজি হারাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমরা সেই দারিদ্র্য অনুভব করবো, নিউজ ফিডে নয়, আমাদের হৃদয়ের শূন্যতায়।”

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


আজ ৩০ জুলাই, আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস, ডিজিটাল যুগে প্রয়োজন প্রকৃত বন্ধু

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

আজ ৩০ জুলাই, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস। বন্ধুদের ট্যাগ করে আবেগঘন বার্তা, স্মৃতিমাখা ছবি, নস্টালজিক ক্যাপশন-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেনো আবেগের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে। ২০১১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের স্বীকৃতি পাওয়া এই দিনটির শিকড় আরও গভীরে। ১৯৫৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’-এর একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সূচনা হয়েছিল বন্ধুত্ব উদযাপনের এই ভাবনাটি।


বন্ধুত্বের মূল্যকে স্বীকৃতি দেয়ার এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বন্ধু মানেই নিছক কোনো ভার্চুয়াল কনট্যাক্ট নয়, বরং একটা জীবন্ত অনুভব, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নামই বন্ধুত্ব। কিন্তু, প্রশ্নটা ঠিক এখানেই, আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে, আমরা কি সত্যিই একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছি, নাকি আরও বেশি একা হয়ে পড়েছি?


ভার্চুয়াল সম্পর্ক বনাম বাস্তব সংযোগ

দৃশ্যত, আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ‘কানেক্টেড’। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ভিডিও কল, টেক্সট, মানুষ যেন এখন সারা দুনিয়ার সাথে সার্বক্ষণিক যুক্ত। কিন্তু এই সংযুক্তির মধ্যে কি আমরা ‘সম্পর্ক’ হারিয়ে ফেলেছি?


টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের খ্যাতিমান ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ফাজিলেত সেয়িতওগলু বলেন, “মানুষ সামাজিক প্রাণী। তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায়, একে অপরকে স্পর্শ করতে চায়, পাশে বসে নিঃশব্দে থেকেও বন্ধুত্ব অনুভব করতে চায়। এই জৈবিক ও মানসিক চাহিদা কোনো অ্যাপ বা অনলাইন চ্যাট পূরণ করতে পারে না।”


তার মতে, বর্তমান প্রজন্মে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয়, তবে এই সম্পর্কগুলো ‘আত্মিক’ নয়। তিনি বলেন, “ফেসবুকে প্রতিদিন কথা হচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে রিলস শেয়ার হচ্ছে, কিন্তু যখন মন খারাপ হয় বা কাঁদতে হয়, তখন তো স্ক্রিনের বন্ধুরা পাশে বসে না। তখন দরকার সেই একজন, যে হাত ধরে, পাশে বসে, মৌন থেকেও সান্ত্বনা দিতে পারে।”


পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই বিলিয়ন। তথাকথিত এই ‘ডিজিটাল কানেকশন’-এর যুগেই ভয়াবহ রকমের একাকিত্ব, বিষণ্ণতা ও আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছেন বহু মানুষ।


২০২২ সালে মনোবিজ্ঞানী এরিক জে. মুডির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক একাকিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে, যারা অধিকাংশ সময় অনলাইনে থাকেন, তারা অনেক সময় ‘সামাজিকভাবে’ যুক্ত থাকলেও, ‘আত্মিকভাবে’ শূন্যতা অনুভব করেন।


সেয়িতওগলু বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুতগামী। এখানে মানুষ স্বস্তি, স্বীকৃতি ও তাৎক্ষণিক আনন্দ খোঁজে। কিন্তু এগুলোতে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় না। এই দুনিয়া ‘ইগো’ দিয়ে চলে, ‘ইম্প্যাথি’ দিয়ে নয়। ফলে বাস্তব, পারস্পরিক, আত্মিক বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”


তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আমাদের পূর্বের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছি, যেখানে পরিবার, সম্প্রদায় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ছিল জীবনের মূল ভিত্তি। এখন সবাই নিজের মধ্যে বন্দি স্বার্থপর, একাকী, ক্ষণস্থায়ী আনন্দে বিভোর। আর মানব আত্মা আস্তে আস্তে অনাহারে ভুগছে।”


সেয়িতওগলু বাস্তব আর ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের তফাৎ তুলে ধরেন দুটি পরিস্থিতির মাধ্যমে। তার কথায়, “আপনার জীবনে কোনো বড় বিপদ এলে, আপনার ফেসবুক বন্ধু কি বাসায় ছুটে আসবে? সে তো অন্য দেশের, অন্য মহাদেশের মানুষ। যতই ইনবক্সে সান্ত্বনা দিক, বাস্তব জগতে তার উপস্থিতি শূন্য। ভালোবাসা মানে তো হাত ধরা, পাশে বসা, কান্নার সময় গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়া।”


এই বক্তব্য নিছক আবেগনির্ভর নয়। গবেষণায়ও এমনটাই উঠে এসেছে। ২০০৪ সালে এনগেলবার্গ ও স্যোজবার্গ-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার ইন্টারনেট ব্যবহার সামাজিক খাপ খাওয়ানো ও আবেগীয় বোধশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে, ২০১৪ সালের ইয়াও এবং ঝং-এর গবেষণায় প্রমাণিত হয়, ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ‘একাকিত্ব’ সৃষ্টি করে, তা দূর করে না।


পরস্পরের কাছে ফিরে যাওয়া সময় এসেছে

তাহলে প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে এই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবো? সেয়িতওগলু বলেন, “সত্যিকারের বন্ধুত্ব অনলাইন থেকেই শুরু হতে পারে, কিন্তু তা টিকে থাকে বাস্তব দুনিয়ায়। বাস্তব বন্ধুতা মানে সময় দেয়া, ত্যাগ স্বীকার করা, শারীরিক উপস্থিতি রাখা। তা না হলে আমরা একসময় নিজেদের কাছ থেকেও অপরিচিত হয়ে যাব।”


তার মতে, আমাদের সমাজে এখন এমনকি বৃদ্ধরাও সঙ্গ পাওয়ার জন্য স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে, মানুষ-মানুষে যে সম্পর্কের উষ্ণতা ছিল, তা ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, “একসাথে খাওয়া, চা খেতে খেতে গল্প, হঠাৎ করে কাউকে দেখতে যাওয়া, এই অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনের সৌন্দর্য ছিল। এখন এগুলো বিলুপ্তপ্রায়। ফলে মানসিকভাবে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছি।”


আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে, যখন আপনি ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে শুভেচ্ছা বার্তা স্ক্রল করছেন, তখন হয়তো একটু ভেবে দেখার সময় এসেছে, এই ‘ভার্চুয়াল শুভেচ্ছার চেয়ে কি একটা ফোনকল বা চায়ের দাওয়াত বেশি অর্থবহ নয়?


সেয়িতওগলু বলেন, “প্রতিটি সেকেন্ড, আমরা যত বেশি ডিজিটাল জীবনে বিনিয়োগ করছি, ততটাই সামাজিক জীবনের পুঁজি হারাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমরা সেই দারিদ্র্য অনুভব করবো, নিউজ ফিডে নয়, আমাদের হৃদয়ের শূন্যতায়।”


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে