চট্টগ্রাম    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

ব্যাগে লাখ ইয়াবা, জব্দ তালিকায় ‘৪০০ পিস’

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ব্যাগে লাখ ইয়াবা, জব্দ তালিকায় ‘৪০০ পিস’
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে একটি দূরপাল্লার বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রথমে ব্যাগ উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ব্যাগটি পুলিশের জিম্মায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে ওই ব্যাগ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও জব্দ তালিকা ও সাক্ষীর স্বাক্ষর নিয়ে দেখা দিয়েছে অসংগতি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যাগে থাকা আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার দেড় মাস পর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘৪০০ পিস ইয়াবা’ উদ্ধারের নতুন গল্প সাজিয়ে ভুয়া জব্দ তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠে এসেছে।

ঘটনার দিন চেকপোস্টের অদূরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ১২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৪ জুন বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের স্ক্যানিয়া মডেলের বাসটি সিটি গেট চেকপোস্টে এসে থামে। বাসের নিচের লাগেজ বক্স খোলার পর সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে একটি বড় খয়েরি রঙের ব্যাগ নামিয়ে নিচে রাখা হয়। বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মালিক শনাক্ত করতে না পেরে আকবরশাহ থানার এএসআই আরিফ ব্যাগটি হাতে নিয়ে চেকপোস্টের দিকে হেঁটে যান। ফুটেজে ব্যাগের কাছে এসআই সাজ্জাদ ও এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকেও অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে সরকারি অন-ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী, ওই সময় এএসআই আরিফের সিটি গেট চেকপোস্টে কোনো ডিউটি ছিল না।

বাসটির সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান জানান, ২৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসার পর সিটি গেটে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে উঠে তল্লাশি চালান। এ সময় সব যাত্রী নিজ নিজ ব্যাগ বুঝে নিলেও একটি খয়েরি ব্যাগের দাবিদার পাওয়া যায়নি। ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে ওই আসনের দিকে গিয়ে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীও বাসে অনুপস্থিত। বাসের ভেতর তল্লাশির সময়ও ওই যাত্রী সিটে ছিলেন।

হাছান বলেন, ‘যাত্রীকে না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা আমার মোবাইল নম্বর রাখে এবং ব্যাগটি নিজেদের জিম্মায় রেখে দেয়। পরে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই। ব্যাগের ভেতর কী ছিল, তা আমার সামনে খোলা হয়নি।’

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা কোনো বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধার বা ইয়াবা পাওয়ার বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ৪ জুন থানা এলাকায় ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের একটি ঘটনা আছে। সেটার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব ইয়াবা চেকপোস্টে কোনো বাস থেকে উদ্ধার হয়নি। ঘটনার তারিখে কোনো বাস থেকে ব্যাগ জব্দ বা ব্যাগের ভেতর ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তাঁর জানা নেই।

তবে সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত শুরুর পর আকবরশাহ থানা-পুলিশ দাবি করছে, উল্লিখিত তারিখে বাস থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানা হেফাজতে রয়েছে।

বর্তমানে পুলিশ যে ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দের তালিকা দেখিয়েছে, তাতে সাক্ষী হিসেবে সোহাগ পরিবহনের বাসটির সুপারভাইজার হাছানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। তবে হাছান তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, তিনি জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করেননি। ব্যাগটিও তাঁর সামনে খোলা হয়নি।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর তথ্যে, বাস থেকে উদ্ধার করা তালাবদ্ধ ব্যাগটি প্রথমে নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ও পরে আকবরশাহ নন্দন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নেওয়া হয়। এরপর আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার দিন চেকপোস্টে ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন এসআই সাজ্জাদ। এ ছাড়া লোকবল হিসেবে ছিলেন এএসআই মেজবাহ উদ্দিন, কনস্টেবল মো. মোমিন ও দামপাড়া পুলিশ লাইনস থেকে আসা আরও চারজন কনস্টেবল। দায়িত্বে না থাকলেও এএসআই আরিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া তারিকুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল ও আমিনুল নামের এক সোর্সও ঘটনাস্থলে ছিলেন।

এসআই সাজ্জাদ প্রথমে দাবি করেন, ওই দিন তাঁর কোনো ডিউটি ছিল না। পরে দায়িত্ব বণ্টনের নথিতে তাঁর নাম চেকপোস্ট ইনচার্জ হিসেবে পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

এএসআই মেজবাহ বলেন, ওই দিন কোনো বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি, আর ব্যাগ না পাওয়া গেলে ইয়াবা উদ্ধারের প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর ভাষায়, ‘পুলিশকে বেকায়দায় ফেলতে কেউ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।’

সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ হাতে নিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত এএসআই আরিফ প্রথমে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনি কর্নেলহাট এলাকায় দায়িত্বে ছিলাম।’ পরে জানান, সেদিন তিনি একজন ওয়ারেন্টের আসামি ধরার জন্য গিয়েছিলেন। পরে চেকপোস্টের দিকে যান।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ‘একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিএমপির পক্ষ থেকে ইনকোয়ারি (তদন্ত) টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ চট্টগ্রাম জেলা বাস ইয়াবা চট্টগ্রাম বিভাগ ছাপা সংস্করণ

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


ব্যাগে লাখ ইয়াবা, জব্দ তালিকায় ‘৪০০ পিস’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট পুলিশ চেকপোস্টে একটি দূরপাল্লার বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রথমে ব্যাগ উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ব্যাগটি পুলিশের জিম্মায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে ওই ব্যাগ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও জব্দ তালিকা ও সাক্ষীর স্বাক্ষর নিয়ে দেখা দিয়েছে অসংগতি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যাগে থাকা আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার দেড় মাস পর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘৪০০ পিস ইয়াবা’ উদ্ধারের নতুন গল্প সাজিয়ে ভুয়া জব্দ তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠে এসেছে।

ঘটনার দিন চেকপোস্টের অদূরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ১২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৪ জুন বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের স্ক্যানিয়া মডেলের বাসটি সিটি গেট চেকপোস্টে এসে থামে। বাসের নিচের লাগেজ বক্স খোলার পর সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে একটি বড় খয়েরি রঙের ব্যাগ নামিয়ে নিচে রাখা হয়। বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মালিক শনাক্ত করতে না পেরে আকবরশাহ থানার এএসআই আরিফ ব্যাগটি হাতে নিয়ে চেকপোস্টের দিকে হেঁটে যান। ফুটেজে ব্যাগের কাছে এসআই সাজ্জাদ ও এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকেও অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে সরকারি অন-ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী, ওই সময় এএসআই আরিফের সিটি গেট চেকপোস্টে কোনো ডিউটি ছিল না।

বাসটির সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান জানান, ২৮ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসার পর সিটি গেটে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে উঠে তল্লাশি চালান। এ সময় সব যাত্রী নিজ নিজ ব্যাগ বুঝে নিলেও একটি খয়েরি ব্যাগের দাবিদার পাওয়া যায়নি। ট্যাগ নম্বর মিলিয়ে ওই আসনের দিকে গিয়ে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীও বাসে অনুপস্থিত। বাসের ভেতর তল্লাশির সময়ও ওই যাত্রী সিটে ছিলেন।

হাছান বলেন, ‘যাত্রীকে না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা আমার মোবাইল নম্বর রাখে এবং ব্যাগটি নিজেদের জিম্মায় রেখে দেয়। পরে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই। ব্যাগের ভেতর কী ছিল, তা আমার সামনে খোলা হয়নি।’

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা কোনো বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধার বা ইয়াবা পাওয়ার বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ৪ জুন থানা এলাকায় ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের একটি ঘটনা আছে। সেটার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব ইয়াবা চেকপোস্টে কোনো বাস থেকে উদ্ধার হয়নি। ঘটনার তারিখে কোনো বাস থেকে ব্যাগ জব্দ বা ব্যাগের ভেতর ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা তাঁর জানা নেই।

তবে সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত শুরুর পর আকবরশাহ থানা-পুলিশ দাবি করছে, উল্লিখিত তারিখে বাস থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানা হেফাজতে রয়েছে।

বর্তমানে পুলিশ যে ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দের তালিকা দেখিয়েছে, তাতে সাক্ষী হিসেবে সোহাগ পরিবহনের বাসটির সুপারভাইজার হাছানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। তবে হাছান তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, তিনি জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করেননি। ব্যাগটিও তাঁর সামনে খোলা হয়নি।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর তথ্যে, বাস থেকে উদ্ধার করা তালাবদ্ধ ব্যাগটি প্রথমে নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ও পরে আকবরশাহ নন্দন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নেওয়া হয়। এরপর আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার দিন চেকপোস্টে ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন এসআই সাজ্জাদ। এ ছাড়া লোকবল হিসেবে ছিলেন এএসআই মেজবাহ উদ্দিন, কনস্টেবল মো. মোমিন ও দামপাড়া পুলিশ লাইনস থেকে আসা আরও চারজন কনস্টেবল। দায়িত্বে না থাকলেও এএসআই আরিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া তারিকুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল ও আমিনুল নামের এক সোর্সও ঘটনাস্থলে ছিলেন।

এসআই সাজ্জাদ প্রথমে দাবি করেন, ওই দিন তাঁর কোনো ডিউটি ছিল না। পরে দায়িত্ব বণ্টনের নথিতে তাঁর নাম চেকপোস্ট ইনচার্জ হিসেবে পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

এএসআই মেজবাহ বলেন, ওই দিন কোনো বাস থেকে ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি, আর ব্যাগ না পাওয়া গেলে ইয়াবা উদ্ধারের প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর ভাষায়, ‘পুলিশকে বেকায়দায় ফেলতে কেউ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।’

সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ হাতে নিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত এএসআই আরিফ প্রথমে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনি কর্নেলহাট এলাকায় দায়িত্বে ছিলাম।’ পরে জানান, সেদিন তিনি একজন ওয়ারেন্টের আসামি ধরার জন্য গিয়েছিলেন। পরে চেকপোস্টের দিকে যান।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ‘একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিএমপির পক্ষ থেকে ইনকোয়ারি (তদন্ত) টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে