চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নি*হত দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (২৪ ব্যাচ)।
নি*হত শিক্ষার্থীরা হলেন— নিহত দুই শিক্ষার্থীর একজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং অপরজন একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুইজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেব অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। উভয়েই সাঁতার জানতেন। গোসলের একপর্যায়ে তাঁরা সাঁতরে পুকুরের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝপুকুরে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শারীরিক অবসন্নতার কারণে তাঁরা পানির গভীরে তলিয়ে যান।
সহপাঠীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং খবর পেয়ে আশপাশের হল থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ছুটে আসেন। ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর একজনকে উদ্ধার করে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃ*ত ঘোষণা করেন। অপর শিক্ষার্থীকে প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হলেও তাঁর প্রাণও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে একই পুকুরে গোসল করতে নেমে যন্ত্রকৌশল (এমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা নামের আরও এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই পুকুরে পরপর তিনটি তাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সংস্কার করা এই পুকুরটিতে পরপর দুটি দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে চুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুন্দর বর্ধন ও খননের নামে পুকুরটিকে মাত্রাতিরিক্ত গভীর করা হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন— সাঁতার কাটা স্থান নির্দেশক লাল পতাকা, লাইফবয়া কিংবা ঘাট সংলগ্ন সীমানা রশি না থাকায় অনভিজ্ঞ বা ক্লান্ত সাঁতারুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এছাড়া এটি কোনো বাণিজ্যিক মৎস্য খামার নয় যে এত গভীর রাখতে হবে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটিকে অগভীর রেখে পাড় বাঁধাই করা হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। দুই সপ্তাহ পূর্বে অর্ণব সাহার মৃত্যুর পরই পুকুর ব্যবহারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার দাবি উঠলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, পুকুরের অতিরিক্ত গভীরতা কমিয়ে নিরাপদ স্তরে আনা এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নি*হত দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (২৪ ব্যাচ)।
নি*হত শিক্ষার্থীরা হলেন— নিহত দুই শিক্ষার্থীর একজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং অপরজন একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুইজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেব অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। উভয়েই সাঁতার জানতেন। গোসলের একপর্যায়ে তাঁরা সাঁতরে পুকুরের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝপুকুরে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শারীরিক অবসন্নতার কারণে তাঁরা পানির গভীরে তলিয়ে যান।
সহপাঠীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং খবর পেয়ে আশপাশের হল থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ছুটে আসেন। ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর একজনকে উদ্ধার করে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃ*ত ঘোষণা করেন। অপর শিক্ষার্থীকে প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হলেও তাঁর প্রাণও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে ঠিক দুই সপ্তাহ আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে একই পুকুরে গোসল করতে নেমে যন্ত্রকৌশল (এমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা নামের আরও এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই পুকুরে পরপর তিনটি তাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে পুরো চুয়েট ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সংস্কার করা এই পুকুরটিতে পরপর দুটি দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে চুয়েট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুন্দর বর্ধন ও খননের নামে পুকুরটিকে মাত্রাতিরিক্ত গভীর করা হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন— সাঁতার কাটা স্থান নির্দেশক লাল পতাকা, লাইফবয়া কিংবা ঘাট সংলগ্ন সীমানা রশি না থাকায় অনভিজ্ঞ বা ক্লান্ত সাঁতারুরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এছাড়া এটি কোনো বাণিজ্যিক মৎস্য খামার নয় যে এত গভীর রাখতে হবে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটিকে অগভীর রেখে পাড় বাঁধাই করা হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। দুই সপ্তাহ পূর্বে অর্ণব সাহার মৃত্যুর পরই পুকুর ব্যবহারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার দাবি উঠলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, পুকুরের অতিরিক্ত গভীরতা কমিয়ে নিরাপদ স্তরে আনা এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন