শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

মিলাদুন্নবী বন্ধের নির্দেশ দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক: অপপ্রচার নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া

মিলাদুন্নবী বন্ধের নির্দেশ দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক: অপপ্রচার নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিজের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। স্থানীয় ও সুফিবাদী মহলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কওমি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের পর তিনি নাকি মন্তব্য করেছেন—‘এ ধরনের বেদাতি কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে করতে দেওয়া হবে না।’ এই দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় সুফিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

যা বললেন জেলা প্রশাসক

ভাইরাল হওয়া এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে যোগাযোগ করা হলে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এই খবর সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন:

"আমার কথা হলো, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে সবার সমান অধিকার রয়েছে, যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ইসলামেও স্পষ্টভাবে বলা আছে—‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ (তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমাদের জন্য)। এখানে আমি কেন আরেকজনের ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে যাব?"

তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, "(মিলাদুন্নবীর মতো ধর্মীয় আয়োজনে) আমার হস্তক্ষেপ করা মানে সরাসরি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া।"

নিজের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য বা লিখিত স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি; এমনকি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করা হয়নি।

মাদ্রাসায় যাওয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমি মূলত পুলিশ প্রশাসন এবং তাদের মধ্যকার একটি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে এই ধরনের (মিলাদুন্নবী বন্ধের) কোনো কথাই হয়নি।"

সচেতন মহলের আহ্বান

প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন দ্ব্যর্থহীন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের বরাته ছড়ানো বক্তব্যটিকে একটি সচেতন মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


মিলাদুন্নবী বন্ধের নির্দেশ দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক: অপপ্রচার নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিজের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। স্থানীয় ও সুফিবাদী মহলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কওমি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের পর তিনি নাকি মন্তব্য করেছেন—‘এ ধরনের বেদাতি কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে করতে দেওয়া হবে না।’ এই দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় সুফিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

যা বললেন জেলা প্রশাসক

ভাইরাল হওয়া এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে যোগাযোগ করা হলে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এই খবর সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন:

"আমার কথা হলো, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে সবার সমান অধিকার রয়েছে, যার যার ধর্ম সে পালন করবে। ইসলামেও স্পষ্টভাবে বলা আছে—‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ (তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমাদের জন্য)। এখানে আমি কেন আরেকজনের ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে যাব?"

তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেন, "(মিলাদুন্নবীর মতো ধর্মীয় আয়োজনে) আমার হস্তক্ষেপ করা মানে সরাসরি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া।"

নিজের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য বা লিখিত স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি; এমনকি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করা হয়নি।

মাদ্রাসায় যাওয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমি মূলত পুলিশ প্রশাসন এবং তাদের মধ্যকার একটি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে এই ধরনের (মিলাদুন্নবী বন্ধের) কোনো কথাই হয়নি।"

সচেতন মহলের আহ্বান

প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন দ্ব্যর্থহীন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের বরাته ছড়ানো বক্তব্যটিকে একটি সচেতন মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে