বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

রাজনীতি

ধৈর্য ধরে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করতে হবে: জামায়াত আমীর

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ধৈর্য ধরে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করতে হবে: জামায়াত আমীর

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও উপকারী সমাধানের জন্য ধৈর্য ধরে উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপযুক্ত জায়গায় তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, তারা খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারে, সম্মানের সঙ্গে তারা তো বিরাট কোটিপতি হতে চায় না। তারা তাদের পরিবারের মুখে একটু ভাত জোগাতে চায়, পিঠে একটু কাপড় জোগাতে চায়, অসুখে একটু চিকিৎসা নিতে চায়। এতটুকুই তাদের জীবন এবং মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই চায়।
তিনি বলেন, আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, সমাজ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে, এটা ভাই ঠিক হয়নি। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমি ব্যক্তি করতে পারি, যানবাহন কোনো ব্যক্তির না। সরকারি যানবাহন, কিন্তু আপনারও ট্যাক্সের টাকা এখানে আছে। আপনিও অংশীদার। এটা যদি একবার ধ্বংস হয়, দেশের ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির অংশীদার আপনিও হবেন।
পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, আবার উভয় পক্ষেই কিছু আহত হয়েছে। আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান আশা করি বের করা যাবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে সবাইকে। ধৈর্য হারালে কোনো সমাধান নাই। ধৈর্য ধরে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে, যেই প্রচেষ্টা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।
মসজিদের সম্পত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে মসজিদের প্রপার্টি। এটা সম্ভবত কোনো গোডাউন জাতীয় কিছু ছিল। এখানে যতটুকু বুঝতে পারলাম যে, যখন উচ্ছেদ অভিযান চলে, তখন তার ছিঁড়ে দিয়ে শর্ট সার্কিট হয়েছে, আগুন লেগেছে, পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে জিনিসটা। আমরা আশা করি এটা পুষিয়ে নেবেন তারা, মসজিদ কর্তৃপক্ষ আছেন। সরকারকে অনুরোধ করব যে, মসজিদের এই প্রপার্টি টুকটাক যে ক্ষতি হয়েছে, সেটার দিকে একটু নজর দেবেন।
তিনি বলেন, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি বন্ধ করেন, দখলদারি বন্ধ করেন, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ-মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদেরকে ধরেন। আর ইতিমধ্যে যারা ঢাকা মহানগরীতে অনেকগুলো বড় অপকর্ম করেছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেন। একজন শাস্তি পেলেই বাকিরা ঠিক হয়ে যাবে। শাস্তি না দিলে ধরে নেব যে এর সঙ্গে সবাই জড়িত।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, প্রশাসন একা পারবে না, জনগণের সহযোগিতা লাগবে। সংগত কাজে, ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, আমরা রুখে দাঁড়াবো। আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। এটা আমরা চাই না। আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন যেন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
তিনি আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সবাইকে আমরা আবারও শান্ত থাকার, ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি এবং কীভাবে সমন্বিতভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেইভাবে সবাইকে সহযোগিতা করারও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ সবার, দেশ আপনার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা একটা ভালো দেশ চাই। ভালো দেশ গঠনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। দখলদারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। ইনশাআল্লাহ, এর মধ্য থেকেই আমরা একটা পরিচ্ছন্ন, মানবিক বাংলাদেশ পাব।
জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে একটা স্ট্যাটাস আমি দিয়েছি। এখানে ধরেন দুইটা নির্বাচনী এলাকা পড়েছে। এই এলাকা ১৬ নম্বর, ওই এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর। এখানে যারা এমপি আছেন, সংসদ সদস্য আপনারাই বানাইছেন। জনগণ আমাদেরকে বানাইছেন। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছতে পারতাম। ভবিষ্যতে আমরা আহ্বান জানাব যে, সরকার তরফ থেকে যে উদ্যোগ নেয়া হবে জনকল্যাণে, সেটা যেন জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে করা হয়। তাহলে জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ধৈর্য ধরে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করতে হবে: জামায়াত আমীর

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও উপকারী সমাধানের জন্য ধৈর্য ধরে উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপযুক্ত জায়গায় তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, তারা খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারে, সম্মানের সঙ্গে তারা তো বিরাট কোটিপতি হতে চায় না। তারা তাদের পরিবারের মুখে একটু ভাত জোগাতে চায়, পিঠে একটু কাপড় জোগাতে চায়, অসুখে একটু চিকিৎসা নিতে চায়। এতটুকুই তাদের জীবন এবং মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই চায়।
তিনি বলেন, আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, সমাজ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে, এটা ভাই ঠিক হয়নি। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমি ব্যক্তি করতে পারি, যানবাহন কোনো ব্যক্তির না। সরকারি যানবাহন, কিন্তু আপনারও ট্যাক্সের টাকা এখানে আছে। আপনিও অংশীদার। এটা যদি একবার ধ্বংস হয়, দেশের ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির অংশীদার আপনিও হবেন।
পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, আবার উভয় পক্ষেই কিছু আহত হয়েছে। আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান আশা করি বের করা যাবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে সবাইকে। ধৈর্য হারালে কোনো সমাধান নাই। ধৈর্য ধরে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে, যেই প্রচেষ্টা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।
মসজিদের সম্পত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে মসজিদের প্রপার্টি। এটা সম্ভবত কোনো গোডাউন জাতীয় কিছু ছিল। এখানে যতটুকু বুঝতে পারলাম যে, যখন উচ্ছেদ অভিযান চলে, তখন তার ছিঁড়ে দিয়ে শর্ট সার্কিট হয়েছে, আগুন লেগেছে, পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে জিনিসটা। আমরা আশা করি এটা পুষিয়ে নেবেন তারা, মসজিদ কর্তৃপক্ষ আছেন। সরকারকে অনুরোধ করব যে, মসজিদের এই প্রপার্টি টুকটাক যে ক্ষতি হয়েছে, সেটার দিকে একটু নজর দেবেন।
তিনি বলেন, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি বন্ধ করেন, দখলদারি বন্ধ করেন, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ-মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদেরকে ধরেন। আর ইতিমধ্যে যারা ঢাকা মহানগরীতে অনেকগুলো বড় অপকর্ম করেছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেন। একজন শাস্তি পেলেই বাকিরা ঠিক হয়ে যাবে। শাস্তি না দিলে ধরে নেব যে এর সঙ্গে সবাই জড়িত।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, প্রশাসন একা পারবে না, জনগণের সহযোগিতা লাগবে। সংগত কাজে, ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, আমরা রুখে দাঁড়াবো। আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। এটা আমরা চাই না। আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন যেন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
তিনি আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সবাইকে আমরা আবারও শান্ত থাকার, ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি এবং কীভাবে সমন্বিতভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেইভাবে সবাইকে সহযোগিতা করারও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ সবার, দেশ আপনার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা একটা ভালো দেশ চাই। ভালো দেশ গঠনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। দখলদারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। ইনশাআল্লাহ, এর মধ্য থেকেই আমরা একটা পরিচ্ছন্ন, মানবিক বাংলাদেশ পাব।
জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে একটা স্ট্যাটাস আমি দিয়েছি। এখানে ধরেন দুইটা নির্বাচনী এলাকা পড়েছে। এই এলাকা ১৬ নম্বর, ওই এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর। এখানে যারা এমপি আছেন, সংসদ সদস্য আপনারাই বানাইছেন। জনগণ আমাদেরকে বানাইছেন। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছতে পারতাম। ভবিষ্যতে আমরা আহ্বান জানাব যে, সরকার তরফ থেকে যে উদ্যোগ নেয়া হবে জনকল্যাণে, সেটা যেন জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে করা হয়। তাহলে জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে