রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

খেলা

বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই আক্ষেপ কি তবে এভাবেই মিটছে? বুরকিনা ফাসোকে ৭ গোলে ওড়াল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই আক্ষেপ কি তবে এভাবেই মিটছে? বুরকিনা ফাসোকে ৭ গোলে ওড়াল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট লড়াই করেও স্পেনের জালে একটি শটও নিতে না পারার আক্ষেপটা কি তবে এভাবেই মেটাচ্ছে আর্জেন্টিনা? বলিভিয়া ম্যাচের পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জুলিয়ানো সিমিওনে—কে গোল করেননি এই ম্যাচে! শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচে আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ২৮টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, যার ১৬টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর (অন টার্গেট)।

মাঠে নামার আগেই যত নাটক

ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই ছিল বড় সংশয়। নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়ে বুরকিনা ফাসো। ফেডারেশন বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে চাইলে জাতীয় দলের অধিকাংশ ফুটবলার খেলতে অস্বীকৃতি জানান।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কোয়াড গড়েন। পুরো দলে সিনিয়র জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার ছিলেন মাত্র একজন—চেক বাবেল। এমন হযবরল অবস্থার মধ্যে ম্যাচের মাত্র ৫ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় গিয়ে পৌঁছায় দলটি। ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করার সময়টুকুও পায়নি তারা; বিমানবন্দর থেকে দলের সরঞ্জাম সোজা মাঠে পাঠানো হয়, আর খেলোয়াড়দেরও সরাসরি নামতে হয় লড়াইয়ে।

প্রথমার্ধেই ৫ গোলের ঝড়

বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, ভ্রমণক্লান্তি আর হুট করে দলগঠনের ধাক্কা—সব মিলিয়ে বুরকিনা ফাসোর তরুণ দলটির ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে আর্জেন্টিনা।

 * ১২তম মিনিট: জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় দল (লাউতারোর সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে এই গোল)।

 * ৩৪তম মিনিট: ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ থ্রু পাস থেকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পান নিকো পাজ।

 * ৩৬তম মিনিট: প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে ব্যবধান ৫-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় এই ৫ গোলের বড় লিড নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের উৎসব

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ লিওনেল স্কালোনি একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন বাদেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, মাস্তানতুওনো ও সুলে।

 * ৫৬তম মিনিট: লাউতারোর বাড়ানো পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে জড়ান ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের জার্সিতে ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ডের এটি প্রথম গোল।

 * ইনজুরি সময় (৯২ মিনিট): ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে দারুণ এক ক্রসে হেড থেকে দলের সপ্তম গোলটি করেন বদলি নামা জুলিয়ানো সিমিওনে।

ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডারদেরও গোলের খাতায় নাম তোলার এই দৃশ্য টানা দুই ম্যাচে দেখা গেল। ফাইনালের হতাশা ভুলে আর্জেন্টিনা দল যেভাবে নিজেদের ফিরে পাচ্ছে, তাতে ভক্তদের মনে নতুন আশার আলো জ্বলতেই পারে!

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই আক্ষেপ কি তবে এভাবেই মিটছে? বুরকিনা ফাসোকে ৭ গোলে ওড়াল আর্জেন্টিনা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিট লড়াই করেও স্পেনের জালে একটি শটও নিতে না পারার আক্ষেপটা কি তবে এভাবেই মেটাচ্ছে আর্জেন্টিনা? বলিভিয়া ম্যাচের পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জুলিয়ানো সিমিওনে—কে গোল করেননি এই ম্যাচে! শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচে আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ২৮টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, যার ১৬টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর (অন টার্গেট)।

মাঠে নামার আগেই যত নাটক

ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই ছিল বড় সংশয়। নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়ে বুরকিনা ফাসো। ফেডারেশন বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে চাইলে জাতীয় দলের অধিকাংশ ফুটবলার খেলতে অস্বীকৃতি জানান।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কোয়াড গড়েন। পুরো দলে সিনিয়র জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার ছিলেন মাত্র একজন—চেক বাবেল। এমন হযবরল অবস্থার মধ্যে ম্যাচের মাত্র ৫ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় গিয়ে পৌঁছায় দলটি। ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করার সময়টুকুও পায়নি তারা; বিমানবন্দর থেকে দলের সরঞ্জাম সোজা মাঠে পাঠানো হয়, আর খেলোয়াড়দেরও সরাসরি নামতে হয় লড়াইয়ে।

প্রথমার্ধেই ৫ গোলের ঝড়

বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, ভ্রমণক্লান্তি আর হুট করে দলগঠনের ধাক্কা—সব মিলিয়ে বুরকিনা ফাসোর তরুণ দলটির ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে আর্জেন্টিনা।

 * ১২তম মিনিট: জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় দল (লাউতারোর সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে এই গোল)।

 * ৩৪তম মিনিট: ম্যাক অ্যালিস্টারের দারুণ থ্রু পাস থেকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পান নিকো পাজ।

 * ৩৬তম মিনিট: প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে ব্যবধান ৫-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমার্ধ শেষ হয় এই ৫ গোলের বড় লিড নিয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের উৎসব

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ লিওনেল স্কালোনি একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন বাদেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, মাস্তানতুওনো ও সুলে।

 * ৫৬তম মিনিট: লাউতারোর বাড়ানো পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে জড়ান ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের জার্সিতে ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ডের এটি প্রথম গোল।

 * ইনজুরি সময় (৯২ মিনিট): ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে দারুণ এক ক্রসে হেড থেকে দলের সপ্তম গোলটি করেন বদলি নামা জুলিয়ানো সিমিওনে।

ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডারদেরও গোলের খাতায় নাম তোলার এই দৃশ্য টানা দুই ম্যাচে দেখা গেল। ফাইনালের হতাশা ভুলে আর্জেন্টিনা দল যেভাবে নিজেদের ফিরে পাচ্ছে, তাতে ভক্তদের মনে নতুন আশার আলো জ্বলতেই পারে!


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে