শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই আসতে পারে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই আসতে পারে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে

আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে পুরোপুরি ছাড়িয়ে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে অংশ নিয়ে গুগলের ডিপমাইন্ড প্রকল্পের সাবেক গবেষক ও বিজ্ঞানী অ্যালেক্স টার্নার ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই’ সম্পর্কে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সামিটে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা খুব দ্রুত বাড়ছে, তবে এর বিকাশ সব ক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না।

টার্নারের মতে, এআইয়ের সক্ষমতা অত্যন্ত অসম। কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখালেও মানুষের কাছে খুব সহজ—এমন সাধারণ যুক্তিবোধের জায়গায় এটি এখনো বেশ পিছিয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক একটি কাজের কথা উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির কিছু অভ্যন্তরীণ এআই মডেল মাত্র কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় এমন কিছু জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেছে, যা কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত ছিল। টার্নারের ভাষায়, গণিতের মতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে এআই ইতিমধ্যে সুপারইন্টেলিজেন্ট বা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে।

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই বলতে এমন এক তাত্ত্বিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা শুধু এক বা দুটি বিশেষ বিষয়ে নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক সব ধরনের কাজেই মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এটি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই থেকে আলাদা। কারণ, এজিআই মূলত সব ক্ষেত্রে মানুষের সমকক্ষ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়। টার্নার জানান, এআইকে যদি কোনো কোম্পানি পরিচালনার মতো জটিল দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে এর কৌশলগত চিন্তাভাবনার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। একটি স্বাধীন এআইয়ের জন্য মানুষকে প্ররোচিত করার ক্ষমতা, কৌশলগত দক্ষতা এবং সাইবার নিরাপত্তাজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এআই যদি মানুষের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের বিপরীতে গিয়ে নিজের মতো কাজ শুরু করে, তবে তা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এটাকে ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’ বা এআইয়ের লক্ষ্য সমন্বয়ের সমস্যা বলা হয়। উন্নত পরিকল্পনা ও সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষম কোনো এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাকে থামানো অত্যন্ত কঠিন হবে। গবেষকেরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো মানুষের নির্দেশ সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই আসতে পারে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে পুরোপুরি ছাড়িয়ে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে অংশ নিয়ে গুগলের ডিপমাইন্ড প্রকল্পের সাবেক গবেষক ও বিজ্ঞানী অ্যালেক্স টার্নার ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই’ সম্পর্কে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সামিটে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা খুব দ্রুত বাড়ছে, তবে এর বিকাশ সব ক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না।

টার্নারের মতে, এআইয়ের সক্ষমতা অত্যন্ত অসম। কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখালেও মানুষের কাছে খুব সহজ—এমন সাধারণ যুক্তিবোধের জায়গায় এটি এখনো বেশ পিছিয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক একটি কাজের কথা উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির কিছু অভ্যন্তরীণ এআই মডেল মাত্র কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় এমন কিছু জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেছে, যা কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত ছিল। টার্নারের ভাষায়, গণিতের মতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে এআই ইতিমধ্যে সুপারইন্টেলিজেন্ট বা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে।

সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই বলতে এমন এক তাত্ত্বিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা শুধু এক বা দুটি বিশেষ বিষয়ে নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক সব ধরনের কাজেই মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এটি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই থেকে আলাদা। কারণ, এজিআই মূলত সব ক্ষেত্রে মানুষের সমকক্ষ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হয়। টার্নার জানান, এআইকে যদি কোনো কোম্পানি পরিচালনার মতো জটিল দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে এর কৌশলগত চিন্তাভাবনার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। একটি স্বাধীন এআইয়ের জন্য মানুষকে প্ররোচিত করার ক্ষমতা, কৌশলগত দক্ষতা এবং সাইবার নিরাপত্তাজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এআই যদি মানুষের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের বিপরীতে গিয়ে নিজের মতো কাজ শুরু করে, তবে তা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। এটাকে ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’ বা এআইয়ের লক্ষ্য সমন্বয়ের সমস্যা বলা হয়। উন্নত পরিকল্পনা ও সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষম কোনো এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাকে থামানো অত্যন্ত কঠিন হবে। গবেষকেরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো মানুষের নির্দেশ সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে