চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা শেখ হাসিনার

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা শেখ হাসিনার

অনলাইন ডেস্ক || ১০ জুলাই, ২০২৬

ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি এবং তাঁর দলের প্রবাসী অন্য শীর্ষ নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা নিজের দেশে ফেরার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ করলেন।


প্রায় এক ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা তাঁর দেশে ফেরার ঝুঁকির কথা স্বীকার করে বলেন,

"তারা আমাকে দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। যদি মৃত্যুই কপালে থাকে, তবে আমি আমার নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই—যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন।"

তিনি আরও জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এই সম্মিলিত আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ দেশের বাইরে থাকা অন্য নেতাদেরও তাঁর সাথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে (in absentia) মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন নাবা কীভাবে ফিরবেনতা ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার। তিনি যদি দেশে ফেরেনতবে কেবল তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই ফিরবেন।"


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার করা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ (extradition) অনুরোধের মুখে এক ধরনের কূটনৈতিক চাপে ছিল। শেখ হাসিনা নিজে থেকে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর দলের কতজন নেতা শেষ পর্যন্ত এই ঝুঁকি নিয়ে তাঁর সাথে ফিরবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। অনেকেই এটিকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা শেখ হাসিনার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অনলাইন ডেস্ক || ১০ জুলাই, ২০২৬

ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি এবং তাঁর দলের প্রবাসী অন্য শীর্ষ নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা নিজের দেশে ফেরার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ করলেন।


প্রায় এক ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা তাঁর দেশে ফেরার ঝুঁকির কথা স্বীকার করে বলেন,

"তারা আমাকে দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। যদি মৃত্যুই কপালে থাকে, তবে আমি আমার নিজের দেশের মাটিতেই মরতে চাই—যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন।"

তিনি আরও জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এই সম্মিলিত আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ দেশের বাইরে থাকা অন্য নেতাদেরও তাঁর সাথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে (in absentia) মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন নাবা কীভাবে ফিরবেনতা ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার। তিনি যদি দেশে ফেরেনতবে কেবল তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই ফিরবেন।"


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার করা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ (extradition) অনুরোধের মুখে এক ধরনের কূটনৈতিক চাপে ছিল। শেখ হাসিনা নিজে থেকে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর দলের কতজন নেতা শেষ পর্যন্ত এই ঝুঁকি নিয়ে তাঁর সাথে ফিরবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। অনেকেই এটিকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নেতা-কর্মীদের চাঙা করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে