চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
সংগৃহীত

রাঙ্গামাটিতে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সাথে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ির ওমদামিয়া দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি।

জানা গেছে, রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা ভারী বর্ষণে বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তীব্র পানির স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলেও, যারা এখনো বাড়িতে আটকে আছেন তারা ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, নিরাপদ পানীয় জল এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সেবা পৌঁছে দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেন, ‘পুরো জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।’

টানা বর্ষণে দুর্ভোগ পানিবন্দী বৃষ্টি

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাঙ্গামাটিতে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সাথে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ির ওমদামিয়া দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি।

জানা গেছে, রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা ভারী বর্ষণে বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তীব্র পানির স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলেও, যারা এখনো বাড়িতে আটকে আছেন তারা ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, নিরাপদ পানীয় জল এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সেবা পৌঁছে দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেন, ‘পুরো জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।’


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে