নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া ৭ জুলাই, ২০২৬
টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ভেঙে পড়লে চাপা পড়ে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত রেনু আক্তার উপজেলার রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাখালী গুচ্ছগ্রামের (আদর্শ গ্রাম) বাসিন্দা।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আসর নামাজের সময় ঘনিয়ে আসায় রেনু আক্তার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি ঘরের পেছনের অংশে ওজু করার জন্য যান। ঠিক ওই মুহূর্তেই ঘরের ঠিক পেছনে থাকা পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ বিকট শব্দে ধসে সরাসরি কাঁচা বসতঘরটির ওপর আছড়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি মাটির নিচে তলিয়ে যায়। ওজু করতে থাকা রেনু আক্তার মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়েন। তার ঘরের ভেতর থাকা অপর দুই সদস্যও মাটির নিচে ও দেয়ালের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি
বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটির নিচ থেকে রেনু আক্তারকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার হওয়া বাকি দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের আগে থেকেই ছিল সতর্কতা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, গত দুদিন ধরে চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল এবং স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আসার ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন, যার ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটল।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে এবং ওই পাহাড়ের নিচে থাকা বাকি পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া ৭ জুলাই, ২০২৬
টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ভেঙে পড়লে চাপা পড়ে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত রেনু আক্তার উপজেলার রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাখালী গুচ্ছগ্রামের (আদর্শ গ্রাম) বাসিন্দা।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আসর নামাজের সময় ঘনিয়ে আসায় রেনু আক্তার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি ঘরের পেছনের অংশে ওজু করার জন্য যান। ঠিক ওই মুহূর্তেই ঘরের ঠিক পেছনে থাকা পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ বিকট শব্দে ধসে সরাসরি কাঁচা বসতঘরটির ওপর আছড়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি মাটির নিচে তলিয়ে যায়। ওজু করতে থাকা রেনু আক্তার মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়েন। তার ঘরের ভেতর থাকা অপর দুই সদস্যও মাটির নিচে ও দেয়ালের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি
বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটির নিচ থেকে রেনু আক্তারকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধার হওয়া বাকি দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের আগে থেকেই ছিল সতর্কতা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, গত দুদিন ধরে চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল এবং স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আসার ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন, যার ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটল।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে এবং ওই পাহাড়ের নিচে থাকা বাকি পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন