রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

জাতীয়

বোমা নিয়ে আতঙ্ক, সারাদেশে সতর্কতা জা‌রি পুলিশের

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বোমা নিয়ে আতঙ্ক, সারাদেশে সতর্কতা জা‌রি পুলিশের
ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা ছিল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি)। শুক্রবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় ‘প্রেশার কুকার’সদৃশ বোমা পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, এটিতে রিমোট কন্ট্রোল যুক্ত ছিল।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। বোমাটির সঙ্গে টাইমার যুক্ত ছিল। এটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা ছিল।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সূত্র বলছে, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় উদ্ধার বোমা আইইডি ছিল। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। জনবহুল এলাকায় বোমা কারা রেখেছে, এর উৎস ও পেছনে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এদিকে আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট ও মিরপুর ১০-এ মেট্রোরেল স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বস্তু দুটি বোমা নয়। বস্তার মধ্যে পান, সুপারি, জর্দার কৌটা ও আবর্জনা ছিল। 

তবে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বোমা ও  বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে বোমা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে কেন– এমন প্রশ্নও আছে কারও কারও। 

আজ রাতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক সমকালকে বলেন, আশুলিয়ার বোমার সঙ্গে রিমোট কন্ট্রোল ও মতিঝিলের বোমাটির সঙ্গে টাইমার যুক্ত ছিল। 

শামসুল হক আরও বলেন, সাধারণ মানুষ অধিক সতর্কতা থেকে আজ মেট্রোস্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু দেখে পুলিশকে জানায়। সেখানে বোমার কোনো উপকরণ ছিল না। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 

আরও কয়েকটি ঘটনা  গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নামে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণে বাড়িটির একাংশ ধসে পড়ে। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক এসিড এবং প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো ৯টি বোমাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অতীতেও উগ্রবাদী তৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। 

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আল আমিন বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের আগের রাতে বোমা তৈরি করেন তিনি। এরপর বোমাগুলো পৃথক একটি কক্ষে সরিয়ে রাখেন। এ সময় এক অসতর্ক মুহূর্তে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আল আমিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান আহত হন। স্ত্রী-সন্তানকে হাসপাতালে রেখে আল আমিন পালিয়ে যান।

২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেট গেট এলাকায় ব্যাগ তল্লাশির সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. শাহ আলম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। পালানোর সময় দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ীর ঘটনার সঙ্গে উগ্রপন্থিদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। 

৭ মার্চে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালিগাছতলা মন্দির প্রাঙ্গণে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২৫ মার্চ সায়েদাবাদের জনপথ মোড় এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশকে ছুরিকাঘাত, কুমিল্লায় বিস্ফোরণ ও সায়েদাবাদের ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। কেরানীগঞ্জের ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনটি ঘটনাতেই তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। 

পুলিশের সতর্কতা  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ দেশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ সব ইউনিটকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, উগ্রবাদী কিছু ব্যক্তি মন্দির ও পুলিশের যানবাহন লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে। চক্রটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা এবং আশুলিয়ায় মুদি দোকানে শক্তিশালী আইইডি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত। তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করছে। পুলিশের গাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ, অগুরুত্বপূর্ণ স্থানকে নিজেদের টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করেছে। হামলার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।  

পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসাইন সমকালকে বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনার পর পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের সতকর্তা এর আগেও দেওয়া হয়েছিল।    দুই স্টেশনে আতঙ্ক  আজ দুপুর ১২টার দিকে ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত একটি বস্তা ঘিরে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়– ওই বস্তার ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের মেট্রোস্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। এরপর সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয়। 

পুলিশ জানায়, মিরপুরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে বস্তুগুলো নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ম্যাস র্যােপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের সকল অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পাশপাশি যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপদে স্টেশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণার পর ট্রেন চলাচল ও যাত্রীসেবা আগের মতোই চালু থাকে। ফার্মগেট স্টেশনের কার্যক্রমও স্বাভাবিক। 

এ ঘটনায় বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া শাখায় সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) শামসুল হক বলেন, মিরপুরে বস্তার মধ্যে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা পাওয়া যায়। ফার্মগেটে বস্তার মধ্যে আবর্জনা ছিল। জননিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি বা ঝুঁকির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা ও ৯৯৯-এ জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।  

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক বলেন, ‘মিরপুর ও ফার্মগেটের বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবরটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এগুলোর সঙ্গে মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে আমরা তদন্ত অব্যাহত রাখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে পারব না।’ পলাতক উগ্রপন্থিদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

পুলিশ বোমা সতর্কবার্তা

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


বোমা নিয়ে আতঙ্ক, সারাদেশে সতর্কতা জা‌রি পুলিশের

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা ছিল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি)। শুক্রবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় ‘প্রেশার কুকার’সদৃশ বোমা পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, এটিতে রিমোট কন্ট্রোল যুক্ত ছিল।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ‘পাইপ বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ। বোমাটির সঙ্গে টাইমার যুক্ত ছিল। এটি পরিত্যক্ত ছাতার মধ্যে রাখা ছিল।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সূত্র বলছে, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় উদ্ধার বোমা আইইডি ছিল। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। জনবহুল এলাকায় বোমা কারা রেখেছে, এর উৎস ও পেছনে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এদিকে আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট ও মিরপুর ১০-এ মেট্রোরেল স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়ার খবরে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বস্তু দুটি বোমা নয়। বস্তার মধ্যে পান, সুপারি, জর্দার কৌটা ও আবর্জনা ছিল। 

তবে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বোমা ও  বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে বোমা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে কেন– এমন প্রশ্নও আছে কারও কারও। 

আজ রাতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক সমকালকে বলেন, আশুলিয়ার বোমার সঙ্গে রিমোট কন্ট্রোল ও মতিঝিলের বোমাটির সঙ্গে টাইমার যুক্ত ছিল। 

শামসুল হক আরও বলেন, সাধারণ মানুষ অধিক সতর্কতা থেকে আজ মেট্রোস্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু দেখে পুলিশকে জানায়। সেখানে বোমার কোনো উপকরণ ছিল না। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 

আরও কয়েকটি ঘটনা  গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নামে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণে বাড়িটির একাংশ ধসে পড়ে। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক এসিড এবং প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো ৯টি বোমাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অতীতেও উগ্রবাদী তৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। 

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আল আমিন বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের আগের রাতে বোমা তৈরি করেন তিনি। এরপর বোমাগুলো পৃথক একটি কক্ষে সরিয়ে রাখেন। এ সময় এক অসতর্ক মুহূর্তে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আল আমিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান আহত হন। স্ত্রী-সন্তানকে হাসপাতালে রেখে আল আমিন পালিয়ে যান।

২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেট গেট এলাকায় ব্যাগ তল্লাশির সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. শাহ আলম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। পালানোর সময় দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ীর ঘটনার সঙ্গে উগ্রপন্থিদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। 

৭ মার্চে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালিগাছতলা মন্দির প্রাঙ্গণে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২৫ মার্চ সায়েদাবাদের জনপথ মোড় এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশকে ছুরিকাঘাত, কুমিল্লায় বিস্ফোরণ ও সায়েদাবাদের ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। কেরানীগঞ্জের ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনটি ঘটনাতেই তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। 

পুলিশের সতর্কতা  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ দেশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ সব ইউনিটকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, উগ্রবাদী কিছু ব্যক্তি মন্দির ও পুলিশের যানবাহন লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে। চক্রটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা এবং আশুলিয়ায় মুদি দোকানে শক্তিশালী আইইডি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত। তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করছে। পুলিশের গাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ, অগুরুত্বপূর্ণ স্থানকে নিজেদের টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করেছে। হামলার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।  

পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসাইন সমকালকে বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনার পর পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের সতকর্তা এর আগেও দেওয়া হয়েছিল।    দুই স্টেশনে আতঙ্ক  আজ দুপুর ১২টার দিকে ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত একটি বস্তা ঘিরে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়– ওই বস্তার ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের মেট্রোস্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। এরপর সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয়। 

পুলিশ জানায়, মিরপুরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে বস্তুগুলো নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ম্যাস র্যােপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের সকল অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পাশপাশি যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপদে স্টেশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণার পর ট্রেন চলাচল ও যাত্রীসেবা আগের মতোই চালু থাকে। ফার্মগেট স্টেশনের কার্যক্রমও স্বাভাবিক। 

এ ঘটনায় বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া শাখায় সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) শামসুল হক বলেন, মিরপুরে বস্তার মধ্যে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা পাওয়া যায়। ফার্মগেটে বস্তার মধ্যে আবর্জনা ছিল। জননিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি বা ঝুঁকির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে স্পর্শ না করে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা ও ৯৯৯-এ জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।  

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক বলেন, ‘মিরপুর ও ফার্মগেটের বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবরটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এগুলোর সঙ্গে মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে আমরা তদন্ত অব্যাহত রাখছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে পারব না।’ পলাতক উগ্রপন্থিদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে