বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

জাতীয়

ফ্লাইট বাতিল হওয়া সৌদি আরবগামী যাত্রীদের অধিকাংশই বিমানবন্দরে এসেছেন তাঁদের ফ্লাইটের তথ্য জানতে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিকল্প রুটে সৌদি আরব যেতে বাড়ছে খরচ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিকল্প রুটে সৌদি আরব যেতে বাড়ছে খরচ

শ্রমিক ভিসায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল বগুড়ার আনোয়ার হোসেনের। গতকাল বেলা ৩টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিগোর ফ্লাইট ছিল তাঁর। কিন্তু ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে।

এরপরও রাত পর্যন্ত এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করে পর বাইপাইলে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। বুধবার সকাল থেকে তিনি বনানীতে যে এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট কেটেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি।

আজ বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সারা দিন অপেক্ষা করেও যাইতে পারি নাই। আজ সকাল থেকে সবাইকে কল দিচ্ছি। কেউই কল ধরছে না। আমি প্রথমবার যাচ্ছি, কী করতে হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন কীভাবে যাব, সেটাও জানি না।’

কাজে যোগ দিতে আবার নতুন টিকিট কাটা প্রসঙ্গে আনোয়ার বলেন, ‘নতুন টিকিট কাটতে তো আবারও টাকা লাগবে। এত টাকা কই পাব?’

বিকল্প ফ্লাইটে অতিরিক্ত খরচ

আনোয়ার হোসেনের মতোই গতকাল রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল জাকির হোসেনের। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১টা ১০ মিনিটে তাঁর ফ্লাইট ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। সেই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অতিরিক্ত আরও ১৬ হাজার টাকা দিয়ে আজ বুধবার রাত ১০টার মদিনাগামী একটি ফ্লাইটের টিকিট নিয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থেকে আসা এই যাত্রী আজ বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২–এর ক্যানোপি এলাকায় দাঁড়িয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমান থেকে বলসে (বলেছে), রুট (গন্তব্য) চেঞ্জ (পরিবর্তন) হয়েছে, সে জন্য আরও ১৬ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি, আমার তো যাইতে হবে।

জাকির হোসেন রিয়াদের একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মঙ্গলবার তাঁর ছুটি শেষ হয়েছে। ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের খবর কফিলকে (নিয়োগকর্তা) জানালে তাঁরা বিকল্প পথে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে জানালেন জাকির।

আতিয়ার রহমান ও সুজাউদ্দিনের ওমরাহ করতে বুধবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁরা যেতে পারেননি। এই দলে ৪০ জন ওমরাহ–যাত্রী রয়েছেন। আতিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্লাইট ধরতে সকালে আসছি। এখানে এসে বাতিলের তথ্য জানতে পেরেছি। এখন হোটেলে থাকতে হবে। অতিরিক্ত খরচ আরকি।’

সরেজমিনে আজ বুধবার বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ফ্লাইট বাতিল হওয়া সৌদি আরবগামী যাত্রীদের অধিকাংশই বিমানবন্দরে এসেছেন তাঁদের ফ্লাইটের তথ্য জানতে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে। বেশির ভাগ যাত্রী বলছেন, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য তাঁরা জানতেন না।

গত চার দিনের তুলনায় আজ অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সেবা দিতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে দেওয়া বেবিচকের নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি কোনো এয়ারলাইনসের কর্মীদের। যাত্রীরা নিজেদের মতোই অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সার্বিক খোঁজ রাখতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে গত সোমবার চিঠি দেয় বেবিচক।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত বাতিল হওয়া কিছু ফ্লাইটের যাত্রীরা বিকল্প ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে গত রোববার পর্যন্ত দেশটির জেদ্দা ও দাম্মাম হয়ে গিয়েছেন কিছু যাত্রী। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার রাতে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদগামী উড়োজাহাজের ঢাকার ফ্লাইট বাতিল হলেও আজ বুধবার থেকে দেশটির জেদ্দা ও দাম্মামগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে বলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাতিল হয়েছে আবুধাবিগামী ফ্লাইটও। বিমানবন্দরের ফ্লাইট–সংক্রান্ত তথ্যে জেদ্দাগামী ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের বিকেল সাড়ে পাঁচটার ফ্লাইটটি বাতিলের তথ্য প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিকল্প রুটে সৌদি আরব যেতে বাড়ছে খরচ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শ্রমিক ভিসায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল বগুড়ার আনোয়ার হোসেনের। গতকাল বেলা ৩টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিগোর ফ্লাইট ছিল তাঁর। কিন্তু ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে।

এরপরও রাত পর্যন্ত এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করে পর বাইপাইলে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। বুধবার সকাল থেকে তিনি বনানীতে যে এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট কেটেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি।

আজ বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সারা দিন অপেক্ষা করেও যাইতে পারি নাই। আজ সকাল থেকে সবাইকে কল দিচ্ছি। কেউই কল ধরছে না। আমি প্রথমবার যাচ্ছি, কী করতে হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন কীভাবে যাব, সেটাও জানি না।’

কাজে যোগ দিতে আবার নতুন টিকিট কাটা প্রসঙ্গে আনোয়ার বলেন, ‘নতুন টিকিট কাটতে তো আবারও টাকা লাগবে। এত টাকা কই পাব?’

বিকল্প ফ্লাইটে অতিরিক্ত খরচ

আনোয়ার হোসেনের মতোই গতকাল রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল জাকির হোসেনের। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১টা ১০ মিনিটে তাঁর ফ্লাইট ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। সেই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অতিরিক্ত আরও ১৬ হাজার টাকা দিয়ে আজ বুধবার রাত ১০টার মদিনাগামী একটি ফ্লাইটের টিকিট নিয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থেকে আসা এই যাত্রী আজ বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২–এর ক্যানোপি এলাকায় দাঁড়িয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমান থেকে বলসে (বলেছে), রুট (গন্তব্য) চেঞ্জ (পরিবর্তন) হয়েছে, সে জন্য আরও ১৬ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি, আমার তো যাইতে হবে।

জাকির হোসেন রিয়াদের একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মঙ্গলবার তাঁর ছুটি শেষ হয়েছে। ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের খবর কফিলকে (নিয়োগকর্তা) জানালে তাঁরা বিকল্প পথে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে জানালেন জাকির।

আতিয়ার রহমান ও সুজাউদ্দিনের ওমরাহ করতে বুধবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁরা যেতে পারেননি। এই দলে ৪০ জন ওমরাহ–যাত্রী রয়েছেন। আতিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্লাইট ধরতে সকালে আসছি। এখানে এসে বাতিলের তথ্য জানতে পেরেছি। এখন হোটেলে থাকতে হবে। অতিরিক্ত খরচ আরকি।’

সরেজমিনে আজ বুধবার বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ফ্লাইট বাতিল হওয়া সৌদি আরবগামী যাত্রীদের অধিকাংশই বিমানবন্দরে এসেছেন তাঁদের ফ্লাইটের তথ্য জানতে। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে। বেশির ভাগ যাত্রী বলছেন, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য তাঁরা জানতেন না।

গত চার দিনের তুলনায় আজ অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সেবা দিতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে দেওয়া বেবিচকের নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি কোনো এয়ারলাইনসের কর্মীদের। যাত্রীরা নিজেদের মতোই অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সার্বিক খোঁজ রাখতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে গত সোমবার চিঠি দেয় বেবিচক।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত বাতিল হওয়া কিছু ফ্লাইটের যাত্রীরা বিকল্প ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে গত রোববার পর্যন্ত দেশটির জেদ্দা ও দাম্মাম হয়ে গিয়েছেন কিছু যাত্রী। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার রাতে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদগামী উড়োজাহাজের ঢাকার ফ্লাইট বাতিল হলেও আজ বুধবার থেকে দেশটির জেদ্দা ও দাম্মামগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে বলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাতিল হয়েছে আবুধাবিগামী ফ্লাইটও। বিমানবন্দরের ফ্লাইট–সংক্রান্ত তথ্যে জেদ্দাগামী ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের বিকেল সাড়ে পাঁচটার ফ্লাইটটি বাতিলের তথ্য প্রদর্শন করা হয়।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে