সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

জাতীয়

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নজরুল-সুইটি স্বামী-স্ত্রী নয় দাবি বাছিরের

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নজরুল-সুইটি স্বামী-স্ত্রী নয় দাবি বাছিরের
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী নয় দাবি করেছেন নজরুলের বাবা আবদুল বাছির। তিনি জানান, সুইটি আক্তারকে তাঁরা চেনেন না। তাঁর বাড়ি কোথায়, তাও তাঁদের জানা নেই।

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছিরের ছেলে। নজরুলের পিতা আবদুল বাছির জানান, ছেলেকে অল্প বয়সে পরিবারের হাল ধরতে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়। তাকে আমরা কখনো দেখিনি, চিনিও না। এ ছাড়া নজরুলও কখনো কিছু বলেনি।

আবদুল বাছির জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিল নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না তিনি। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি।

আবদুল বাছির আরও বলেন, সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।

স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২২ বছর বয়সী নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি আরবের পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার তখন জানতে পারলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি।

নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের না জানিয়ে গোপনে ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাঁদের বাড়িতে আসছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তাঁরা।

স্থানীয় মাইনুদ্দিন বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় অসন্তোষ গ্রামবাসী। দরিদ্র কৃষক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখছি, বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। তাঁরা যোগাযোগ করলে এই পরিস্থিতি হতো না। আজ পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও তাঁরা কেউ যোগাযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

সৌদি আরব চট্টগ্রাম বিভাগ জেলার খবর বাংলাদেশি মৃত্যুদণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নজরুল-সুইটি স্বামী-স্ত্রী নয় দাবি বাছিরের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী নয় দাবি করেছেন নজরুলের বাবা আবদুল বাছির। তিনি জানান, সুইটি আক্তারকে তাঁরা চেনেন না। তাঁর বাড়ি কোথায়, তাও তাঁদের জানা নেই।

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছিরের ছেলে। নজরুলের পিতা আবদুল বাছির জানান, ছেলেকে অল্প বয়সে পরিবারের হাল ধরতে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়। তাকে আমরা কখনো দেখিনি, চিনিও না। এ ছাড়া নজরুলও কখনো কিছু বলেনি।

আবদুল বাছির জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিল নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না তিনি। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি।

আবদুল বাছির আরও বলেন, সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।

স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২২ বছর বয়সী নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি আরবের পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার তখন জানতে পারলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি।

নজরুলের মা রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের না জানিয়ে গোপনে ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দী থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাঁদের বাড়িতে আসছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তাঁরা।

স্থানীয় মাইনুদ্দিন বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় অসন্তোষ গ্রামবাসী। দরিদ্র কৃষক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, এখন পর্যন্ত যা দেখছি, বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। তাঁরা যোগাযোগ করলে এই পরিস্থিতি হতো না। আজ পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও তাঁরা কেউ যোগাযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে