চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায়ও বন‍্যা পরিস্থিতি

চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায়ও বন‍্যা পরিস্থিতি

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পুরো জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নিচে চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

১. দক্ষিণ চট্টগ্রামের পরিস্থিতি (সবচেয়ে ভয়াবহ)

  • সাতকানিয়া: পুরো উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা পুরোপুরি পানির নিচে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন। বাজালিয়া, ঢেমশা, ধর্মপুর, ও চরতিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। উদ্ধারকাজের জন্য প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট মোতায়েন করেছে।
  • বাঁশখালী ও লোহাগাড়া: বাঁশখালীর কাথারিয়া, ছনুয়া, শেখেরখীলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন জোয়ার ও ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও আধুনগর এলাকায় টঙ্কাবতী নদীর পানি উপচে বাড়িঘর ও ফসলি জমি ডুবে গেছে।
  • চন্দনাইশ ও পটিয়া: সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চন্দনাইশের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

২. চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর চট্টগ্রাম

  • চট্টগ্রাম শহর: চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট এবং কাতালগঞ্জের মতো নিচু এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
  • সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী ও রাউজান: সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকার তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি সড়ক ধসে পড়েছে। অক্সিজেন-হাটহাজারী ও কুয়াইশ সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রশাসন যা বলছে

  • রেল ও সড়ক যোগাযোগ: পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
  • বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়: অনেক দুর্গত এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া এবং সাব-স্টেশন ডুবে যাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
  • প্রশাসনের প্রস্তুতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ত্রাণ হিসেবে চাল, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।

পাহাড়ধসের সতর্কতা: টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায়ও বন‍্যা পরিস্থিতি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image


মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পুরো জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নিচে চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

১. দক্ষিণ চট্টগ্রামের পরিস্থিতি (সবচেয়ে ভয়াবহ)

  • সাতকানিয়া: পুরো উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা পুরোপুরি পানির নিচে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন। বাজালিয়া, ঢেমশা, ধর্মপুর, ও চরতিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। উদ্ধারকাজের জন্য প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট মোতায়েন করেছে।
  • বাঁশখালী ও লোহাগাড়া: বাঁশখালীর কাথারিয়া, ছনুয়া, শেখেরখীলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন জোয়ার ও ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও আধুনগর এলাকায় টঙ্কাবতী নদীর পানি উপচে বাড়িঘর ও ফসলি জমি ডুবে গেছে।
  • চন্দনাইশ ও পটিয়া: সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চন্দনাইশের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

২. চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর চট্টগ্রাম

  • চট্টগ্রাম শহর: চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট এবং কাতালগঞ্জের মতো নিচু এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
  • সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী ও রাউজান: সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকার তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি সড়ক ধসে পড়েছে। অক্সিজেন-হাটহাজারী ও কুয়াইশ সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রশাসন যা বলছে

  • রেল ও সড়ক যোগাযোগ: পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
  • বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়: অনেক দুর্গত এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া এবং সাব-স্টেশন ডুবে যাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
  • প্রশাসনের প্রস্তুতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ত্রাণ হিসেবে চাল, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।

পাহাড়ধসের সতর্কতা: টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে