চিটাগাং টুডে

মূল পাতা

সারাদেশ

চুয়েট গেটে সড়ক যেন মরণফাঁদ: আলোর অভাবে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, ক্ষুব্ধ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

চুয়েট গেটে সড়ক যেন মরণফাঁদ: আলোর অভাবে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, ক্ষুব্ধ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা
ছবি- চিটাগাং টুডে

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রধান ফটক সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কটি এখন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সড়ক বাতি বা আলোর সুব্যবস্থা না থাকায় রাতের আঁধারে সড়কের মাঝখানে থাকা রোড ডিভাইডারগুলো (সড়ক বিভাজক) যেন একেকটি অদৃশ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ গত রাতেও চুয়েটের সামনে আলোর স্বল্পতার কারণে একটি দ্রুতগামী কার (ব্যক্তিগত গাড়ি) সড়ক ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা দিলে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িতে থাকা আরোহীরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সপ্তাহে ঘটছে ২-৩ টি দুর্ঘটনা

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, চুয়েটের শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই নির্দিষ্ট স্পটে প্রতি সপ্তাহেই অন্তত দুই থেকে তিনটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। দূর থেকে চালকরা বুঝতেই পারেন না যে সামনে একটি ডিভাইডার রয়েছে। একদম কাছাকাছি আসার পর যখন ডিভাইডারটি দৃশ্যমান হয়, তখন ব্রেক কষার বা গাড়ি নিয়ন্ত্রণের আর কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে প্রতিনিয়ত ভাঙছে গাড়ির চাকা, উল্টে যাচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, আর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও দূরপাল্লার বাস।

ক্ষুব্ধ পথচারী ও স্থানীয়দের দাবি

ক্রমাগত এই দুর্ঘটনার কারণে চুয়েট সংলগ্ন এলাকার সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও চুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"এখানে ডিভাইডার দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু আলোর ব্যবস্থা না করায় এটা এখন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সুড়ঙ্গ হয়ে গেছে। প্রায় রাতেই বিকট শব্দ শুনি আর দৌড়ে গিয়ে দেখি কেউ না কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এভাবে তো চলতে পারে না।"

সাধারণ পথচারী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীদের এখন একটাই স্পষ্ট দাবি— ১. অবিলম্বে এই রোড ডিভাইডারগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিং বা আলোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে দূর থেকেও চালকরা সতর্ক হতে পারেন। ২. যদি কোনো কারণে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয়, তবে মানুষের জানমালের সুরক্ষার্থে এই বিপজ্জনক ডিভাইডারগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি

একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই দিনের পর দিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থার কারণে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এলাকার ভাবমূর্তি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বড় কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় চুয়েট গেটের এই 'অন্ধকার ফাঁদ' আরও অনেক পরিবারের কান্না ডেকে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন

চিটাগাং টুডে

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


চুয়েট গেটে সড়ক যেন মরণফাঁদ: আলোর অভাবে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, ক্ষুব্ধ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রধান ফটক সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কটি এখন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সড়ক বাতি বা আলোর সুব্যবস্থা না থাকায় রাতের আঁধারে সড়কের মাঝখানে থাকা রোড ডিভাইডারগুলো (সড়ক বিভাজক) যেন একেকটি অদৃশ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ গত রাতেও চুয়েটের সামনে আলোর স্বল্পতার কারণে একটি দ্রুতগামী কার (ব্যক্তিগত গাড়ি) সড়ক ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা দিলে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িতে থাকা আরোহীরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সপ্তাহে ঘটছে ২-৩ টি দুর্ঘটনা

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, চুয়েটের শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই নির্দিষ্ট স্পটে প্রতি সপ্তাহেই অন্তত দুই থেকে তিনটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। দূর থেকে চালকরা বুঝতেই পারেন না যে সামনে একটি ডিভাইডার রয়েছে। একদম কাছাকাছি আসার পর যখন ডিভাইডারটি দৃশ্যমান হয়, তখন ব্রেক কষার বা গাড়ি নিয়ন্ত্রণের আর কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে প্রতিনিয়ত ভাঙছে গাড়ির চাকা, উল্টে যাচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, আর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও দূরপাল্লার বাস।

ক্ষুব্ধ পথচারী ও স্থানীয়দের দাবি

ক্রমাগত এই দুর্ঘটনার কারণে চুয়েট সংলগ্ন এলাকার সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও চুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

"এখানে ডিভাইডার দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু আলোর ব্যবস্থা না করায় এটা এখন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সুড়ঙ্গ হয়ে গেছে। প্রায় রাতেই বিকট শব্দ শুনি আর দৌড়ে গিয়ে দেখি কেউ না কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এভাবে তো চলতে পারে না।"

সাধারণ পথচারী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীদের এখন একটাই স্পষ্ট দাবি— ১. অবিলম্বে এই রোড ডিভাইডারগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিং বা আলোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে দূর থেকেও চালকরা সতর্ক হতে পারেন। ২. যদি কোনো কারণে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয়, তবে মানুষের জানমালের সুরক্ষার্থে এই বিপজ্জনক ডিভাইডারগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি

একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই দিনের পর দিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থার কারণে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এলাকার ভাবমূর্তি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বড় কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় চুয়েট গেটের এই 'অন্ধকার ফাঁদ' আরও অনেক পরিবারের কান্না ডেকে আনবে।


চিটাগাং টুডে

চেয়ারম্যান ও প্রকাশক: শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক: আশিক উল বাসির
সহ- সম্পাদক: নুর জাফর রাহুল
নির্বাহী পরিচালক: মোহাম্মদ শফিউল আলম
নির্বাহী সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
বার্তা সম্পাদক: মোহাম্মদ আরফাতুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ চিটাগাং টুডে