নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) কার্যালয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাইকেলসহ সরাসরি জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্তের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আজ (১৯ জুলাই, ২০২৬) চট্টগ্রামের চান্দগাঁও (বহদ্দারহাট) ক্যাম্পে অবস্থিত র্যাব-৭ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হাফিজুর রহমান, পিএসসি।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক জানান, সম্প্রতি চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট অফিসে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে এবং সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অস্ত্রধারী হামলাকারীদের তাণ্ডবের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নজরে আসার পর র্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৯ জন গ্রেফতার
র্যাব জানায়, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাইকেলকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মাইকেলকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে, যা সিসিটিভি ফুটেজে তাদের হাতে দেখা গিয়েছিল।
আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জেরে হামলা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে লেঃ কর্নেল মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। মাইকেলের নেতৃত্বেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং নগরীতে এ ধরনের গ্যাং কালচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র্যাবের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) কার্যালয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাইকেলসহ সরাসরি জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্তের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আজ (১৯ জুলাই, ২০২৬) চট্টগ্রামের চান্দগাঁও (বহদ্দারহাট) ক্যাম্পে অবস্থিত র্যাব-৭ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হাফিজুর রহমান, পিএসসি।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক জানান, সম্প্রতি চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট অফিসে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে এবং সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অস্ত্রধারী হামলাকারীদের তাণ্ডবের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নজরে আসার পর র্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৯ জন গ্রেফতার
র্যাব জানায়, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাইকেলকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মাইকেলকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে, যা সিসিটিভি ফুটেজে তাদের হাতে দেখা গিয়েছিল।
আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির জেরে হামলা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে লেঃ কর্নেল মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। মাইকেলের নেতৃত্বেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং নগরীতে এ ধরনের গ্যাং কালচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র্যাবের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়

আপনার মতামত লিখুন