নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সাথে উদ্ঘাটিত হয়েছে অপহরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পারিবারিক প্রতিহিংসা ও অভিনব প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আর কেউ নন, স্বয়ং শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে উদ্ধারে নিবিড় তদন্ত শুরু করে জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে জানা যায়, ওয়াসিফাকে তার বাবা দেলোয়ারের মামাতো ভাই ফয়সাল ও তার স্ত্রীর যৌথ সহযোগিতায় তাদের নিজস্ব বাসায় অত্যন্ত গোপনে আটকে রাখা হয়েছে।
আড়ালে ছিল পারিবারিক বিরোধ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো বাহ্যিক অপরাধী চক্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও গভীর প্রতিহিংসার জের ধরেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ছক আঁকা হয়েছিল। ওয়াসিফাকে অপহরণ করে ফয়সাল তার নিজের বাসাতেই লুকিয়ে রেখেছিল।
সন্দেহ এড়াতে নিখোঁজের অভিনয়ে শামিল!
এই ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও ধূর্ততার দিকটি ছিল অভিযুক্ত ফয়সালের দ্বৈত ভূমিকা। অপহরণের পর যেন কেউ তাকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে, সেজন্য সে কৌশলে ভুক্তভোগী বাবা দেলোয়ারের পাশে এসে দাঁড়ায়। ওয়াসিফাকে খুঁজে বের করার জন্য বাবার সাথে দিন-রাত এক করে নিখোঁজের অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নেয় সে। এমনকি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ওয়াসিফাকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে নিজেই থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত করছিল।
যেভাবে মিলল মুক্তি
ফয়সালের এমন চাতুরতার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ডিবি পুলিশের নিবিড় ও প্রযুক্তি-নির্ভর তদন্তের মুখে তার সব কৌশল ভেস্তে যায়। নিখুঁত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সালের বাসায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটিকে সফলভাবে উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই নৃশংস ও প্রতারণামূলক অপহরণের ঘটনায় জড়িত মূল হোতা ফয়সালসহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সাথে উদ্ঘাটিত হয়েছে অপহরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পারিবারিক প্রতিহিংসা ও অভিনব প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আর কেউ নন, স্বয়ং শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকা থেকে অপহৃত হওয়া স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে উদ্ধারে নিবিড় তদন্ত শুরু করে জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে জানা যায়, ওয়াসিফাকে তার বাবা দেলোয়ারের মামাতো ভাই ফয়সাল ও তার স্ত্রীর যৌথ সহযোগিতায় তাদের নিজস্ব বাসায় অত্যন্ত গোপনে আটকে রাখা হয়েছে।
আড়ালে ছিল পারিবারিক বিরোধ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো বাহ্যিক অপরাধী চক্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও গভীর প্রতিহিংসার জের ধরেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ছক আঁকা হয়েছিল। ওয়াসিফাকে অপহরণ করে ফয়সাল তার নিজের বাসাতেই লুকিয়ে রেখেছিল।
সন্দেহ এড়াতে নিখোঁজের অভিনয়ে শামিল!
এই ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও ধূর্ততার দিকটি ছিল অভিযুক্ত ফয়সালের দ্বৈত ভূমিকা। অপহরণের পর যেন কেউ তাকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে, সেজন্য সে কৌশলে ভুক্তভোগী বাবা দেলোয়ারের পাশে এসে দাঁড়ায়। ওয়াসিফাকে খুঁজে বের করার জন্য বাবার সাথে দিন-রাত এক করে নিখোঁজের অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নেয় সে। এমনকি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ওয়াসিফাকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে নিজেই থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত করছিল।
যেভাবে মিলল মুক্তি
ফয়সালের এমন চাতুরতার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ডিবি পুলিশের নিবিড় ও প্রযুক্তি-নির্ভর তদন্তের মুখে তার সব কৌশল ভেস্তে যায়। নিখুঁত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সালের বাসায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রী ওয়াসিফাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটিকে সফলভাবে উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই নৃশংস ও প্রতারণামূলক অপহরণের ঘটনায় জড়িত মূল হোতা ফয়সালসহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন